বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি মন্ত্রণালয়ে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির একটি প্রতিনিধি মন্ত্রণালয়ে এসেছিলেন। তারা একটি পত্র আমাকে হস্তান্তর দিয়েছেন, যেটির সারমর্ম ছিল এ রকম, বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসার প্রয়োজন- সেই দাবি নিয়ে তারা এসেছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিনিধিদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আদালত একটি কমিটি করে দিয়েছিলেন। কমিটিকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, সেই বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব রকমের ব্যবস্থা করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপির নেতারা যে সুচিকিৎসার কথা বললেন, আপনারা নিশ্চয় জানেন, বিএনপি চেয়ারপারসন যখন অন্তরীণ হলেন, আমরা জেলকোড অনুযায়ী চিকিৎসা থেকে যা যা ব্যবস্থা করার, তা করেছি। তাকে একজন মহিলা অ্যাটেনডেনসও আমরা দিয়েছি। আমরা তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম, সেখানে তার চিকিৎসার পর রিলিজ দেয়া হয়।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুয়ায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারিতে বোর্ড খালেদা জিয়াকে দেখে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা জানিয়েছে। এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য শিগগির তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ তা বলা যাচ্ছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বিএনপি প্রতিনিধিদল দলীয় চেয়ারপারসনের চিকিৎসা ইউনাইটেড হাসপাতালে করানোর কথা বলেছেন। আমরা তাদের বলেছি বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিকেল বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চেয়ারপারসনকে বিদেশ নেয়া হবে কিনা –এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাংবাদিকের মির্জা ফখরুল বলেন, চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন তার সর্বোচ্চ সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার বলে ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি বিশ্বাস করি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কথা রাখবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।