নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ হামলায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার প্রতিমন্ত্রী জানান, নিউজিল্যান্ড সরকার বাংলাদেশকে জানিয়েছে, দেশটি নিহত বাংলাদেশিদের একজন স্বজনকে তারা নিয়ে যাবে। মরদেহ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার জন্যই স্বজনদের সেখানে নেবে তারা।
রোববার ইউএনবিকে মন্ত্রী জানান, হামলায় প্রথমে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও ৩ বাংলাদেশির নিহত হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে।
এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া নিহত ৩ বাংলাদেশি হলেন : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ ও সিলেটের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হোসনে আরা আহমেদ এবং জাকারিয়া ভুইয়া। নরসিংদীর জাকারিয়া প্রায় ১৮ মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে নিউজিল্যান্ড যান।
নিউজিল্যান্ডের এক কর্মকর্তা জানান, এখনো নারায়ণগঞ্জের মো. ওমর ফারুক ও চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক নিখোঁজ রয়েছেন। ‘সম্ভবত’ তারা মারা গেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে লিপির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার আরেকটি অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে- কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা লিপির স্বামীর নাম মাসুদ।
এ ছাড়া পায়ে গুলিবিদ্ধ মুতাসসিম (গাজীপুর) ও শেখ হাসান রুবেলের অবস্থা বিপদমুক্ত।
শাহরিয়ার আলম জানান, উদ্বিগ্ন বাংলাদেশিরা নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমানের মুঠোফোনে (+৬৪ ২১০২৪ ৬৫৮১৯) যোগাযোগ করতে পারেন।
এ ছাড়া আরও দুটি জরুরি নম্বরেও (+৬১ ৪২৪ ৪৭২৫৪৪ এবং +৬১ ৪৫০১৭৩০৩৫) যোগাযোগ করা যাবে।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান জাতীয় ক্রিকেটদলের খেলোয়াড়রা।