রাজধানীর বনানী এফআর টাওয়ারের ৮ তলা থেকে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে— প্রত্যক্ষদর্শীরা এমটাই জানিয়েছেন গণশুনানিতে।
এ ঘটনার কারণ উদঘাটনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়েরর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গণশুনানি শেষে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি প্রধান ফায়জুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন।
শুনানিতে ২৪ প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারের পাশে গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব ফায়জুর রহমান।
তিনি বলেন, সাধারণত এ ধরনের বহুতল ভবনে যেসব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকার দরকার, তা ছিল না। আগুন লাগার সময় ভবনে কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি। কখনও কোনো অগ্নি সুরক্ষার মহড়া হয়নি। ভবনের ফায়ার এক্সিট ওয়ে খুবই সরু, অনেকগুলো ফ্লোরে এক্সিট ডোর সিল করা ছিলো। এক্সিট ডোরের কোনো দিকনির্দেশক চিহ্ন ছিল না। এ কারণে আগুনের ঘটনায় ভবনে অবস্থান করা কেউ ওই ডোরটি ব্যবহার করতে পারেনি।
এদিকে, বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, সংস্কার ছাড়া ভবনটি এই মুহূর্তে ব্যবহার করা যাবে না।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানী এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ প্রাণ হারান।
এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতধিকের বেশি।
ভয়াবহ আগুণের ঘটনা কারণ উদঘাটনে কাজ করছে বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটি ও বিশেষজ্ঞ দল। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ১০ থেকে ১২টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির উদ্যোগে চলে গণশুনানি।
এতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ২৪ জনের সাক্ষ্য নেন তদন্ত দলের প্রতিনিধিরা। আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে, ভবনে অগ্নিনির্পাবক যন্ত্র রয়েছে কিনা, সিড়ি খোলা না তালা লাগানো ছিলো- এমন নানা প্রশ্নের উত্তর দেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ভয়াবহ আগুনের ধোয়ার কারণে বেশির ভাগ মানুষ মারা গেছেন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গণশুনানি শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি প্রধান জানান, বেশির ভাগ সাক্ষীই জানিয়েছেন ভবনের ৮ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
এদিকে, ভবনের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন অপর বিশেষজ্ঞ টিম। এই মুহূর্তে ভবন ব্যবহার অনুপযোগী বলে জানিয়েছেন তারা।
এই ভবনের কংক্রিট ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ১৫০ দিন সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ দল।
এদিকে, রাজধানীর বনানী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত গুলশান, বসুন্ধরা এবং বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: তাজভিরুল ইসলাম ও এসএম এইচ আই ফারুক। গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের মধ্যে ফারুক জায়গা ও ৪৫ শতাংশ অবকাঠামোর মালিক। আর তাজভিরুল ইসলাম অবৈধভাবে নির্মিত অংশের মালিক এবং ভবনটির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি।