ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না— শিল্পায়ন যেমন জমি দরকার তেমন-ই কৃষিতেও জমি লাগবে এ অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চট্টগ্রামের মিরসরাই ইকোনমিক জোন চরাঞ্চলে হচ্ছে সেখানে কোনো ফসলি জমি নেয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও কোনো কার্যক্রমে ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না বলে জানান তিনি।
বুধবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন তিনি।
মানুষের জন্য কাজ করি, সেই মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য না— এক্ষেত্রে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের যেন কষ্ট না হয় সে দিকে নজর দিতে হবে—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই জমি অধিগ্রহণের সময় ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে কি-না এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।
যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ সঙ্গে সঙ্গে দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের জমির তিনগুণ দাম দেয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি তাদের ছেলে-মেয়েকে ওইসব ইকোনমিক জোনের কোম্পানি-কারখানায় চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চলনায় মীরসরাই প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
এ সময় ফেনীর স্থানীয় সংসদ সদস্য লে. জে. (অব.) মাসউদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান, দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনী অর্থনৈতিক জোন নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’সহ ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন ও ১৩টির অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ১৬টি বাণিজ্যিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ২০টি শিল্প কারখানার ভিত্তিস্থাপন করেন তিনি। একই সঙ্গে আরও ৫ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ও বসুন্ধরা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. ফখরুদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।