ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরে ফায়ারম্যান সোহেল রানার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল রাজধানীর গুলিস্তানে আবস্থিত ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে সম্মান জানানো হয়। বিউগলের সুর বাজিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পতাকায় মোড়ানো সোহেল রানার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফায়ার সার্ভিসের চৌকস দল।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোহেল রানার নামাজে জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক, পরিচালক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহকর্মীসহ আরও অনেকে তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

সোহেল রানার প্রথম জানাজা সম্পন্ন
এখন সোহেল রানার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে
তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর পৈত্রিক নিবাস কিশোরগঞ্জের ইটনায় নেয়া হবে এবং সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন হবে।
এর আগে সোমবার স্থানীয় সময় ভোরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ফায়ার ফাইটার সোহেল রানা।
সোমবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সোহেল রানার মরদেহবাহী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার জানানো হয়। পরে মরদেহ নেয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।
সোহেল রানার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। বাবা নূরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে রানা দ্বিতীয়। ২০১৫ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহেল রানাকে ৫ এপ্রিল সিঙ্গাপুর নেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বনানী অগ্নিকাণ্ডে কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের উঁচু ল্যাডারে (মই) উঠে আগুন নেভানো ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার কাজ করছিলেন। এক পর্যায়ে সোহেলের শরীরে লাগানো নিরাপত্তা হুকটি মইয়ের সঙ্গে আটকে যায়। তিনি মই থেকে পিছলে পড়ে বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিলেন। এ সময় তার একটি পা ভেঙে যায়।