প্রায় ২২ বছর পর আবারো প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেল থেকে দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় পালা করে টহল দিচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা।
এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে দেশের পাশে দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে নৌপথের দূরত্ব মাত্র কয়েক ঘণ্টার। ওপারে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত টহল থাকলেও প্রায় বাইশ বছর বাংলাদেশ অংশে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনো কার্যক্রম ছিলো না। ফলে মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটেছে অনেকবার। এসব প্রতিরোধে সেন্টমার্টিন দ্বীপে একজন মেজরের নেতৃত্বে স্থাপন করা হয়েছে বিজিবি ক্যাম্প।
সম্প্রতি মিয়ানমার তাদের মানচিত্রে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের বলে দাবি করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে বিজিবি মোতায়েনে অনেকটা স্বস্তি এসেছে তাদের মধ্যে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে সেন্টমার্টিনে একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপে মোট জনসংখ্যা প্রায় বারো হাজার।
এদিকে, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি মোতায়েনের মাধ্যমে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় এমন উদ্যোগে উদ্বেগের কিছু নেই বলেও তাদের দাবি।
তবে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে মিয়ানমারের দাবি অন্যায় ও অযৌক্তিক ছাড়া কিছু নয়- বলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী শিকদার।
এমন অন্যায় দাবির মাধ্যমে মিয়ানমারের সামরিক সরকার রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যু ভিন্ন খাতে নেয়ারও অপচেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি।
রাখাইনে নির্যাতনের হাত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংকটের মধ্যেই মিয়ানমারের সামরিক সরকার সেন্ট মার্টিনকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে আবারও দাবি করেছে। গত বছরের অক্টোবরের পর সম্প্রতি দেশটি আবারো তাদের জনসংখ্যা বিষয়ক ওয়েবসাইটে এমন দাবি করা হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সেন্টমার্টিনের সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন করে সরকার। দীর্ঘ ২২ বছর পর কক্সবাজার সংলগ্ন এই প্রবাল দ্বীপে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারকে নিরাপত্তা বিশ্লষেকরা যথার্থ উদ্যোগ বলেই মনে করছেন।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমনপীড়ন ও গণহত্যার কারণে এমনিতেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা মিয়ানমারের কেন এমন অযৌক্তিক দাবি তুলছে-এমন প্রশ্নও উঠেছে।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আর ক্ষমতায় টিকে থাকতেই এমন অন্যায় আবদার দেশটির সামরিক সরকারের।
তবে এ নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কোনো সংঘাত বাধার আশঙ্কা নেই বলেও এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করছেন।