নুসরাতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তার পরিবারের স্বজনরা— হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তার বাবা এ কে এম মানিক।
নুসরাতের বাবা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমাদের পাশে থাকার জন্য। আপনারা আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন সে যেন বেহেশতবাসী হয়। আমি মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার চাই।
ময়নাতদন্ত শেষে আগুনে দগ্ধ মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতের মরদেহ ফেনীর সোনাগাজীতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ আছর দাদীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেয়ায় শনিবার নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ৮০ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
নুসরাতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নুসরাতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে উচ্চ আদালত। তদন্তে কোনো ধরণের গাফিলতি বা শৈথিল্য হলে হস্তক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে উচ্চ আদালত।
বাঁচানো গেল না ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে। যৌন নিপীড়নকারী অধ্যক্ষের অনুসারীদের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে টানা পাঁচ দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে চলে গেল না ফেরার দেশে।
চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে, অবশেষে বুধবার রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।
নুসরাতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তার পরিবারের স্বজনরা। এ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তাদের।
বৃহস্পতিবার সকালে নুসরাতের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। শরীরের ৮০ শতাংশই পুড়ে যাওয়া এবং শ্বাসনালী দগ্ধ হয়ে যাওয়াতেই নুসরাতের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ময়নাতদন্ত শেষে নুসরাতের মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে ফেনীর সোনাগাজীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে বাদ আসর, তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
সোনাগাজীর আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার যৌন হয়রানীর শিকার হয়। 'শ্লীলতাহানির' অভিযোগ এনে গত মার্চে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করে নুসরাতের পরিবার। সেই মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন গত শনিবার পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
এদিকে, অধ্যক্ষের কাছে কিভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হতেন তা নিজের খাতার পাতায় লিখে গেছেন মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত। পুলিশ সেটি তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে।
এদিকে, মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আরো দুই জনের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ ঘটনায় সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে, মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেওয়ায় আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আফছার হোসেন ও ছাত্রীর সহপাঠী আরিফুর ইসলামকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এ আদেশ দেয়
এর আগে মঙ্গলবার এ মামলার বাকি চার আসামির পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
এ মামলায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে তাকে।
সেই সঙ্গে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ শাখার এআইজি সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।