ফেনী সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
রাজধানীর শাহবাগে নিপীড়ন ও ধর্ষণবিরোধী এক মানববন্ধনে এমন দাবি জানানো হয়।
সমাজে বিচারহীনতার অভাবেই নারীরা প্রতিনিয়ত যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলেও জানান বক্তারা।
নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণ রোধে শুক্রবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন ও পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।
মানববন্ধনে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার আসামির পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
বিশেষ আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান তারা।
সমাজে বিচারহীনতার অভাবে নারীর প্রতি নিপীড়ন দিন দিন বাড়ছে বলেও মনে করেন উপস্থিত বক্তারা।
মানববন্ধন শেষে ধর্ষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে একটি পদযাত্রা বের করা হয়।
এদিকে, মাগুরায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা ও নারী নিপীড়নের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১০টার দিকে শহরের প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন হয়।
‘তনু, রাফিয়া, নুসরাত—আগামীকাল আমি নই তো?’, আমার বোন হত্যার বিচার করুন অথবা আমাকে হত্যা করুন’, ‘বার্ন ইউনিটে জ্বলছে বোনের লাশ, রাষ্ট্র কী করে ধর্ষকের মুক্তি চাস’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা পোস্টার হাতে মানববন্ধনে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা।
নুসরাত হত্যার বিচারের পাশাপাশি আরও দুটি দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবি, ধর্ষণের মামলা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে। এ ধরনের মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ঘটনার ৭ দিনের মধ্যে দিতে হবে। প্রয়োজনে এটিকে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
মানববন্ধনে তারা বলেন, শুধু দেরিতে চার্জশিট দেয়ার কারণে মামলা দুর্বল হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যদের গড়িমসির কারণে পার পেয়ে যায় ভয়ংকর অপরাধীরা।
মানববন্ধনে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কখনো কখনো নারীর ওপর নিপীড়ন হলে উল্টো ওই নারীর পোশাক বা চলাচল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই সমাজেরই একটি অংশ। এখন তারা কী বলবে? নুসরাত তো বোরকা পরেও পশুদের হাত থেকে রক্ষা পেল না।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আরাফাত হোসেন, মাইশা কবির, হুমাইরা, সোহানসহ মাগুরা মেডিকেল কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। নুসরাতের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শেষ হয় মানববন্ধন।