হজ যাত্রীদের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই হবে— এ বিষয়ে সৌদি ও বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে হজ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হচ্ছে সে হিসেবে এ বছর ঢাকার আশকোনা হজ ক্যাম্পে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন সম্পন্নের পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি এক্সক্লুসিভ জোনে সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে বলে।
মন্ত্রী জানান, ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদন করতে হজ ভিসার জন্য দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই দেশের আট বিভাগে প্রত্যেক হজযাত্রীর দশ আঙ্গুলের হাতের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে ছবি তোলা ও পাসপোর্ট স্ক্যান করা হবে। আট বিভাগের প্রতিটি জেলা সদরের ডিসি অফিসে সৌদি আরবের টেকনিক্যাল প্রতিনিধি দলের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে শাহজালালে সৌদি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সহজ হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আসন্ন রোজার মাসের মাঝামাঝিতে এসএমএস করে জানিয়ে দেয়া হবে, কবে থেকে হজযাত্রীদের আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হবে।
এবছর পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাবেন। মোট হজযাত্রীদের শতকরা ৫০ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ও অবশিষ্ট ৫০ভাগ সৌদি এয়ার লাইন্সে বহন করবে।
প্রচলিত রীতি অনুসারে বাংলাদেশ বিমানের হজযাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পে ও সৌদি এয়ার লাইন্সের যাত্রীরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। আসন্ন হজে একই নিয়মে তারা আশকোনা ক্যাম্পে ও শাহজালাল বিমান বন্দরে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন। এরপর উভয় বিমানের হজযাত্রীদের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি এক্সুসিভ জোনে নিয়ে যাওয়া হবে। সৌদি আরবের জেদ্দায় তাদের যে ইমিগ্রেশন হতো, সেই কাজটি এই এক্সক্লুসিভ জোনে সম্পন্ন করা হবে। এক্সক্লুসিভ জোনের সব কার্যক্রম সৌদি আরবের টেকনিক্যাল প্রতিনিধি দলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জেদ্দা বিমান বন্দরে ৬-৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করার বিড়ম্বনা দূর হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদিআরবে হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে যে সমস্যা হতো, সেটা এবার আর হবে না। ইতোমধ্যেই আমরা ভালো বাড়ি ভাড়া পেয়েছি। সেখানে ধর্মমন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত থেকে এই কর্যক্রম পরিচালনা করছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের আগের মনোভাব এবারের মনোভাব এক না। এবার আমরা যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছি তারা মেনে নিয়েছেন।