শুভ নববর্ষ ! স্বাগত ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব- নববর্ষকে বরণ করে নিতে দেশজুড়ে নানা আনন্দ-আয়োজনে মেতেছে মানুষ।
পুরনো জরাজীর্ণতা মুছে দিয়ে নতুনের আবাহনে রোববার ভোরে সূর্যোদয়ের আভায় রাজধানীতে রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভ বোধ। দাবি জানানো হয়-নুসরাতের মতো আর যেন কাউকে নৃশংতার শিকার হতে না হয়। গানে গানে ছিল সেই চেতনা জাগানিয়া আহ্বান।
বৃষ্টিস্নাত ভোরের হাওয়ায়, গাছের পাতায় যেন সুরের দোলা। গাছের পাতার ফাঁক গলে বৈশাখের প্রথম সূর্যের আলো এসে পড়ে উপস্থিত দর্শকদের ওপর। ছায়ানটের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠেন গান।
লোকে লোকারণ্য রমনা বটমূল। সবকটি পথ দিয়ে, সব দিক দিয়ে উৎসবে শামিল মানুষ। মূল প্রাঙ্গণে ঠাঁই নেই- আর তাই সরোবর ঘিরে বসে, দাঁড়িয়ে শুভ দিনের প্রত্যাশায়।
সঙ্গীত-কবিতা পাঠের মধ্যে মানবতা, সম্প্রীতি ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেন সকলে।
নতুন বছরে মানুষে মানুষে মিলিত হবার এই যে আকাঙ্ক্ষা- তা সঞ্চারিত হবে সকল সময়ে- এমন প্রত্যাশা সবার।
নববর্ষে শিশুদেরও যেন আনন্দ বাধ মানে না।
সমাজে সাম্প্রদায়িক অন্ধকার ও যে কোন ধরনের অনাচার রুখতে ১৪২৬'র প্রথম প্রভাতে নীতিহীনতা, অন্যায়-অত্যাচারের নীরব দর্শক হয়ে না থাকার আহ্বান ছায়ানটের কর্ণধার সনজীদা খাতুন।
ফেনির মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার বিচারের দাবি ও তাকে স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছায়ানটের বৈশাখের প্রভাতী অনুষ্ঠান।