মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে -এই মর্মবাণীকে প্রতিপাদ্য করে ছিল এবার বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে এ শোভাযাত্রায় অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ। যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য আখতারুজ্জামানসহ বিশিষ্টজনেরা।
অমঙ্গল-গ্লানি দূরে ঠেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে উন্নত দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বরাবরের মতো বাংলা নববর্ষ ১৪২৬কে বরণ করতে এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ এই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ জড়ো হন চারুকলার সামনে।
বেলা ৯টা বাজতে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় এই শোভাযাত্রা। উজ্জীবিত সূর্যের আহ্বানে " মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে " বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই মর্মবাণীকে প্রতিপাদ্য করা হয় এবারের যাত্রায়। ঢাক-ঢোলের বাজনার তালে তালে সবার কণ্ঠে এই গানের সঙ্গে এগিয়ে চলে শোভাযাত্রা।
উজ্জীবিত সূর্যের পাশাপাশি মানুষের মুখের ছবি, শান্তির প্রতীক পায়রা, হাতি, গরু, টেপা পুতুল এবং মহিষসহ নানা পশু পাখির বিশাল প্রতিকৃতিও ছিলো শোভাযাত্রার আকর্ষণ। সেই সঙ্গে বাঘ, পেঁচাসহ নানা পশু-পাখির প্রতিকৃতির মুখোশও শোভা পায় মানুষের হাতে। তৈরি করা হয় বাঘের মুখ থেকে বক কাঁটা বের দরে দেয়ার ছবি।
উৎসবে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিলো প্রাণচঞ্চলতা। বাঙালির সর্বজনীন উৎসবে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পেরে তারাও বেশ খুশি।
বাঙালির এই প্রাণের উৎসবে এসে অবিভূত ভিনদেশি মানুষরাও।
শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্য মো. আখতারুজ্জামান নতুন বছরে সবার মাঝে শান্তি বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, শিশুপার্কের সামনে দিয়ে গিয়ে পুনরায় চারুকলায় গিয়ে শেষ হয়।