বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকেই বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে বেড়িয়ে এসেছে। ভবনটি আটতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা ৯তলা ও ১০তলা হয়ে এগারো তলা পর্যন্ত পৌঁছায়। প্রচন্ড ধোঁয়ার কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলেও উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ ব্রিফিং এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ এনামুর রহমান।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে যে ভবন নির্মান হবে তা বিল্ডিং কোড মেনে এবং অগ্নিনির্বাপন, ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলারও সুপারিশ করেছে কমিটি।
সংবাদ ব্রিফিং বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এফআর টাওয়ারে আগুনের সুত্রপাত ঘটে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওইসব ঘটনা থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতে নতুনভাবে গড়ে ওঠা ভবন বিল্ডিং কোড ছাড়া হতে দেয়া যাবেনা। যেসব ভবন তৈরী হয়ে গেছে, সেসব ভবনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে হবে।
আসছে বর্ষা মৌসুম এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দেশের বন্যা প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সোয়া এক লাখ ঘর তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আসছে জুনের মধ্যেই শেষ করা হবে ১২ হাজার ঘর।
এছাড়া যেসব স্থানে বাঁধ নির্মাণ করা রয়েছে, তা নিয়মিত মনিটর করার পাশপাশি নতুন নতুন বাঁধ তৈরি করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়ার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
গেল ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুরিহাট্টায় ওয়াহিদ ম্যানশন, ২৭ ফেব্রুয়ারি ভাষানটেক বস্তি, ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড তার একদিন পরে গুলশান কাঁচাবাজারে অগ্নিকান্ডে প্রায় একশো জনের প্রানহানী ঘটে। শতকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওইসব দুর্ঘটনার কারন খুঁজে বের করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করে।