প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওন আজ রোববার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আলোচনায় বসবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গতকাল জানিয়েছেন, ‘দু‘নেতা আগামীকাল (রোববার) বিকেল সাড়ে ৪টা দিকে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে বসবেন।’ দু‘দেশের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে দু‘নেতা কিছু সময়ের জন্য একান্তে আলাপ করবেন।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা লি নাক ইওনকে বেলা ৪টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের টাইগার গেটে স্বাগত জানাবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, দু‘দেশের আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর দু‘প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দু‘দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।‘
প্রেস সচিব বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই নেতা যৌথ বিবৃতি দেবেন।
সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ত্যাগের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শক বইয়ে সই করবেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে একটি বিশেষ ফ্লাইটযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বিমানবন্দরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী এই সফরকালে লি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, দু’দেশের জনগণ পর্যায়ে যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আইসিটি সেক্টর ছাড়াও বাংলাদেশ দীর্ঘ দিনের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কোরিয়ার সমর্থন চাইবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করবো, এটি এখন আমাদের সকলের সঙ্গে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। যারাই আমাদের এখানে আসবেন, আমরা তাদের কাছেই এ সমস্যার (রোহিঙ্গা সংকট) সমাধানে সহযোগিতা চাইবো।’