জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কমিটি নেতারা। নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা প্রথমে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরও একবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের কাছে আমাদের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করতে যাচ্ছি। সেখানে বছরব্যাপী যে কর্মসূচি তা যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করব।
এর জন্য আমাদের ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নের যে এজেন্ডা, তা বাস্তবায়নে উপযোগী শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগকে আমরা নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়েছি। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সোনার মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবে আওয়ামী লীগকে আমরা গড়ে তুলব। সেটাই আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির অঙ্গীকার।
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামকে শহর বানানো আওয়ামী লীগের একটি চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি পরিবারের একজন করে বেকারকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অবশ্যই আরেকটি চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে- আজকে গণতন্ত্রকে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সুশাসনের পথে আমরা কয়েক ধাপ এগিয়েছি। আরও এগিয়ে যেতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবেলা করব। সেজন্যই আজকে পার্টিকেও রিকাস্ট করার দরকার ছিল। সেখানে দলকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকারের মধ্যে দলকে গুলিয়ে ফেলা থেকে অনেকটা আমরা সরে এসেছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি- দল শক্তিশালী হলে সরকারও শক্তিশালী হবে।
এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোজাফফর হোসেন পল্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, আবদুল মতিন খসরু, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলীসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা (বিএনপি) সব সময় অন্ধকারে ঢিল ছোড়ে। তারা নির্বাচন হওয়ার আগেই নির্বাচনে হেরে যায়। এটা তাদের পুরনো স্বভাব। এটা নতুন করে বলে কোনো লাভ নেই। তারা যেখানে জিতে সেখানেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলে যায়- কারচুপি হয়েছে, কেন্দ্র দখল হয়েছে, জালিয়াতি হয়েছে। এটা বিএনপির পুরনো অভ্যেস। সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার ও এ নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ইভিএম স্বীকৃত আধুনিক প্রদ্ধতি। আসলে অভিযোগ করার জন্য, নালিশ করার জন্য বিএনপি নালিশ করছে। তাদের এটা আরেকটা অভ্যেস। পাশের দেশ ভারতেও ইভিএম নিয়ে তুমুল বিতর্ক রয়েছে।
কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই সেখানে ইভিএম চালু রেখেছে। কাজেই বিএনপির এসব অভিযোগ বাস্তবে একেবারেই অবান্তর। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে যে বাস্তবতা, এখানে যে ক’টা নির্বাচন ইভিএমে হয়েছে, সেখানে কিন্তু বিএনপির প্রার্থীরা বেশি জিতেছে। রেকর্ড আছে। সিলেটে ইভিএমে তারা জিতেছে। খুলনায় দুটির মধ্যে একটিতে বিএনপি জিতেছে। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় ইভিএমে তারা (বিএনপি) ভোটে হয় কাছাকাছি চলে গেছে, নয়তো জিতেছে। এটাই আমাদের দেশের বাস্তবতা।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস তাতে ৩ জানুয়ারি কুয়াশার জন্য ফেরির সমস্যা হতে পারে। সে কারণে একটু আগে আমাদের নেত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা হল- ৩ তারিখের প্রোগ্রাম ঠিকই আছে। যৌথসভা হবে। তবে সেটা হবে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানেই আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই সিদ্ধান্ত হবে টুঙ্গিপাড়া সফর কবে হবে।