প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল। মাদক আমাদের পরিবার ও সমাজের জন্য বড় হুমকি। সন্ত্রান, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। পুলিশ দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে এসব সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ যেন চলতে পারে সে উদ্দ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দক্ষতার সাথে পুলিশ সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে।’
রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর রাজারবাগের পুলিশ লাইন্সে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২০’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। উদ্বোধনী বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগে গুজব রটনা কারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ভূমিকা রেখেছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যারা বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক অভিন্দন। ইতোমধ্যে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যে কোনো দেশের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো দুর্নীতি। ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতিহারে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিড়ো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ১১ লাক্ষের বেশি মায়ানমার নাগরিককে বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় ও সহায়তা প্রদান করেছে।
তিনি আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। জনগণের আকাঙ্খা পূরণে আমরা কাঙ্খিত লক্ষে উপনীত হবোই।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ১৪ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ২০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)- সেবা’ এবং ৫৬ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)- সেবা’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।