করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে খাদ্য উৎপাদনে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটা কাজের লক্ষ্য কৃষকদের সুবিধা দেয়া। সেদিকে লক্ষ্য রেখে যখনই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, তখনই আমরা সব থেকে গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। আমরা নিশ্চিত করেছি আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। খাদ্য নিশ্চয়তা রাখতে হবে। কারণ এই করোনাভাইরাসের কারণে যখন সারাবিশ্ব স্থবির, তখন একটা দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে যেন তার প্রভাব না পড়ে, বাংলাদেশের মানুষ যেন এ ব্যাপারে কোনো কষ্টভোগ না করে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি।
জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা মানুষকে উৎসাহিত করছি যে, এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না। গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগান… যে যা পারেন কিছু লাগিয়ে নিজের উৎপাদন বাড়ান।
তিনি বলেন, খাদ্যটা হচ্ছে– সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই খাদ্য নিশ্চয়তা যদি আমরা দিতে পারি, আমাদের মানুষগুলো আমরা বাঁচাতে পারি, সেই সঙ্গে মানুষও কাজ পায়। প্রত্যেককে উৎসাহিত করি… সবাই… যার যেটুকু জমি আছে সবাই যেন কাজ করেন।
বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষে শুক্রবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।
বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন এই বিশ্বকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করি। আর বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের একটিই চিন্তা– জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারব।
দেশের মানুষের সংগ্রাম তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী এবং তারা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা রাখে। এই করোনার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়, বন্যা সবই মোকাবেলা করে যাচ্ছি আমরা। কাজেই এভাবে আমাদের বাঁচতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে।