ঘূর্ণিঝড় যশের কারণে সারাদেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউ। মঙ্গলবার (২৫ মে) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
টানা ৫৯ দিন লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার পর চালু করার সরকারি নির্দেশ হলেও ঘুর্ণিঝড়ের ঝুঁকি এড়াতে মালিক পক্ষ টার্মিনালে নৌযান বেঁধে রেখেছে। যাত্রীরা সোমবার সারাদিন টার্মিনালে ভীড় করলেও রাত পর্যন্ত কোন নৌযানই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়েনি। দিনভর খুলনা টার্মিনালে বাঁধা ছিল দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের একাধিক নৌযান।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল আকার ধারণ করে ভারতমুখী হচ্ছে। গতিপথ পরিবর্তন না হলে যশ ভারতের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার সকালে অথবা অন্য যেকোন সময়েই যশ আছড়ে পড়তে পারে। তবে আঘাতের সময়ে বা ঠিক আগেই গতিমুখ বদল করতে পারে যে কোন ঘূর্ণিঝড়।
এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূল থেকে ৪৬৫ থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ, দক্ষিণ পশ্চিমে রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
যশ ভারতের উপকূল বরাবর আঘাতের সময়ে সুন্দরবনসহ খুলনা উপকূলে ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ঝাপটা দিতে পারে। সুন্দরবন কমবেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। খুলনা বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ৫ এপ্রিল থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলেও লঞ্চ না ছাড়ায় ভীড় করছে যাত্রীরা। সোমবার রাতে খুলনা লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঝড়ের কারণে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে খুলনা-মদিনাবাদ, খুলনা-নীলডুমুর, খুলনা-কুড়িকাহুনিয়া রুটে এমএল ফারিয়া সাদিয়া, এমএল আল মদিনা-১, এমএল ওয়াটার কিং ৮, এমএল মুহুয়ীনাফি ও এমএল মোহামমদী লঞ্চসহ বেশ কয়েকটি লঞ্চ টার্মিনালে বাঁধা ছিল। / ভোকা