সারাদেশে মোটরচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ কোথাও মোটরচালিত রিকশা চলাচল করতে পারবে না। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নছিমন, করিমন, ইজিবাইক ও ভটভটিসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহনের বন্ধের ব্যাপারে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখনো এগুলো চলাচল করতে পারবে। এধরনের যানবাহনের সংখ্যা পরিমিত করা এবং ভবিষ্যতে বন্ধ করা যায় কি-না সেটা নিয়ে পরে আলোচনা হবে।
রবিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য টাস্কফোর্সের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
সভায় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান, সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো: মসিউর রহমান রাঙা, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার মুহা: শফিকুল ইসলামসহ টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যরা সশরীরে ও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সারাদেশে রিকশা-ভ্যানে মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে। এসব যানবাহনের শুধু সামনের চাকায় ব্রেক থাকে। পেছনের চাকায় কোনো ব্রেক নেই, গিয়ারও নেই। এতে ব্রেক করার সময় যাত্রীসহ উল্টে যায়। হাইওয়েতেও এই মোটরচালিত রিকশা চলাচল করছে। দূর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এজন্য সারাদেশে এই ধরনের রিকশা চলাচল বন্ধের ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচল করতে পারবে।
তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যেই কমিটি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১১১টি সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছিলো। এরপর একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। ইতিমধ্যেই কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে। বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবা নের পথে রয়েছে। বাকিগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে আমরা সেই বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, ভটভটি বিভিন্ন শহরে চলাচলের কারনেও দূর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আমরা দেশের সব জায়গায় যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারিনি। এখন গ্রামেও সুন্দর রাস্তা হয়েছে। কিন্তু লোকজনের চলাচলের জন্য সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ছাড়া পর্যাপ্ত যানবাহন নেই। সেজন্য নছিমন, করিমন পণ্য পরিবহন কিংবা যানবাহনের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। খুব শিগগিরই এসব যানবাহনের সংখ্যা পরিমিত করা এবং ভবিষ্যতে বন্ধ করা যায় কি-না তা নিয়েও ভবিষ্যতে ট্রাস্কফোর্সের সভায় আলোচনা হবে। ইজিবাইক অনেক বেড়েছে। এগুলো ছোট ছোট গলি রোডে চলাচলের কথা ছিলো। কিন্তু এখন তারা সব রাস্তায় চলাচল করছে। তারা যেন নির্দিষ্ট রাস্তা থেকে বের হতে না পারে সেদিকে পুলিশকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে এগুলোও বন্ধ করে দেবো।
সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীতে ১৩ হাজার মোটরচালিত রিকশা-ভ্যান আমরা এখন পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে। ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তারা যেন নিদিষ্ট এলাকার বাইরে বের হতে না পারে সেজন্য নজরদারি রয়েছে।