বাংলাদেশি বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় দণ্ডিত পলাতক মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ জিয়াউল হক, আকরাম হোসেনসহ হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবিরোধী পুরস্কার কর্মসূচি রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস গতকাল সোমবার মেজর জিয়া ও আকরামের সন্ধান চেয়ে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাব ধরে ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
রিওয়ার্ড ফর জাস্টিসের ঘোষণার প্রায় দুই ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এরই মধ্যে অভিজিৎ হত্যাকারীদের তথ্যদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগ তার ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিসের’ মাধ্যমে এরই মধ্যে তথ্য আহ্বান করেছে।
অভিজিৎ হত্যার দায়ে জিয়া ও আকরামকে খুঁজছে বাংলাদেশও। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ হত্যার দায়ে মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আকরাম হোসেন ওরফে আবির ও মো. আরাফাত রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন শফিউর রহমান ফারাবিকে। এরা আনসার আল ইসলামের সদস্য। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে।
পলাতক জিয়া ও আকরামকে এখনো ধরতে পারেনি বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তবে দণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।
তবে রিওয়ার্ড ফর জাস্টিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী ভারতীয় উপমহাদেশের আল-কায়েদার (একিউআইএস) এক নেতা বলেছেন, হামলাকারীরা ধরা পড়েননি। অভিজিতের ওপর হামলাকারীরা এখনো বাংলাদেশে আছেন বলেই বিশ্বাস করা হয়—এমন তথ্যও রয়েছে মার্কিন বিজ্ঞপ্তিতে। বাংলাদেশের পুলিশও মেজর জিয়াকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে।
রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস হচ্ছে সন্ত্রাস দমনের কাজে ভূমিকার জন্য পুরস্কার দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দপ্তরের একটি কর্মসূচি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা। এ কর্মসূচির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন কোনো তথ্যের জন্য কাউকে পুরস্কৃত করতে পারেন, যার ফলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা কর্মকাণ্ডের চেষ্টা অথবা এর পরিকল্পনা, অর্থায়ন বা সহায়তার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার বা দোষী সাব্যস্ত করা যায়। এ উদ্যোগের আওতায় এ পর্যন্ত ১০০-এরও বেশি লোককে ২০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ পুরস্কার হিসেবে দিয়েছে তারা। / কা