দিনভর আশায় বুক বেঁধে ছিলেন ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির লাখো গ্রাহক। খবর ছিল, সোমবার ভাঙ্গা হবে ধানমন্ডিতে অবস্থিল ইভ্যালির প্রধান অফিসের একটি লকার। হয়তো যে লকারে মিলবে নগদ টাকা, ব্যাংকে গচ্ছিত গ্রাহকদের টাকার চেকসহ ইভ্যালির সম্পদের কিছুটা। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি-আবারও অপেক্ষা বাড়লো সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ইভ্যালিতে টাকা দেয়া লাখো গ্রাহকের।
সোমবার আদালতে রায়ে ইভ্যালির ধানমন্ডি অফিসের লকারটি ভেঙে শতাধিক চেক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৯৭টি এবং সিটি ব্যাংকের ১০টি চেক রয়েছে।
এসব চেক থেকে এমন কোনো টাকার হদিস মিলবে না বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একারণে প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা ফেরতে খুব বেশি আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। এমন শংকার কথা জানিয়েছেন আদালত কর্তৃক ইভ্যালির দায়িত্ব থাকাদের একজন।
সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এরপর বিকেল ৩টার দিকে ইভ্যালির কার্যালয় থেকে লকারগুলো বের করা হয়। সেখানে উপস্থিত আছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসফিয়া সিরাত।
তিনি আরও জানান, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের কোম্পানি কোর্টের ওই আদেশের পরও লকার দুটির পাসওয়ার্ড পায়নি কমিটি। যে কারণে লকার ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির নাম দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত। প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে ইভ্যালির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে আছেন।