গতকাল (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২) আনুমানিক রাত ১০:৩০ ঘটিকায় বান্দরবান জেলাস্থ রুমা জোনের একটি টহল দলের সাথে সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস মূল দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনায় সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার নিহত এবং একজন সৈনিক আহত হন।
জেএসএস পন্থী সন্ত্রাসীদের একটি দল রুমা উপজেলার বথিপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে আগমন করবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাইং খিয়াং লেক আর্মি ক্যাম্প হতে সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবের নেতৃত্বে একটি নিরাপত্তা টহল দল উক্ত এলাকায় গমন করে। রাত আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় টহল দলটি বথিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে নিকটস্থ একটি জুম ঘর থেকে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত টহল দলের উপর গুলি বর্ষণ শুরু করে।
সদা প্রস্তুত সেনা টহল দলটির দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সাহসী পাল্টা হামলায় সন্তু লারমার মদদপুষ্ট জেএসএস মূল দলের তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হবার আলামত পাওয়া যায়। এ সময় পলায়নপর সন্ত্রাসীদের এলোপাথারি গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে টহল কমান্ডার সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পরেন এবং সৈনিক ফিরোজ নামে একজন সেনাসদস্য ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। নিহত এবং আহত সেনা সদস্যদেরকে আজ বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২) সকালে রুমা হতে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে হেলিকপ্টার যোগে স্থানান্তর করা হয়।
উক্ত অভিযানে সেনা টহল দল কর্তৃক সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ১ টি এসএমজি, ২৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ টি এম্যোনিশন ম্যাগাজিন, ৩ টি গাদা বন্দুক, গাদা বন্দুকের ৫ রাউন্ড গুলি, ৪ জোড়া ইউনিফর্ম এবং চাঁদাবাজির নগদ ৫২,৯০০ টাকা জব্দ করা হয়।
বর্তমানে সেনা টহল দল উক্ত এলাকায় ব্যাপক তল্লাশী জারি রেখেছে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সেনা সদস্যবৃন্দ নিরীহ পার্বত্য জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ‘অনুচ্ছেদ ঘ’ এর ধারা অনুযায়ী সকল অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেয়ার মাধ্যমে তৎকালীন শান্তিবাহিনীর সকল সদস্যদের আত্মসমর্পণের শর্ত থাকলেও জনাব জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা তা ভঙ্গ করে চুক্তি সম্পাদনের পরবর্তী সময় হতেই সশস্ত্র সন্ত্রাসী লালন করে আসছেন।
সম্প্র্রতি তার দলটি রাঙামাটি জেলার সীমানা ছাড়িয়ে বান্দরবান জেলার গহীন পার্বত্য অরণ্যে আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে পার্বত্যবাসী দাবী করছে। প্রায়শই সন্তু লারমা ও তার দল সরকারের বিরুদ্ধে শান্তি চুক্তি ভঙ্গ ও বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ করে আসছে। অথচ এ বছর জানুয়ারি মাসেই পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নানিয়ারচর সেতু এবং বালুখালি-ঘুনধুম সীমান্ত সংযোগ সড়ক উদ্বোধন করেন। পক্ষান্তরে উক্ত এলাকায় তৎপর চারটি আঞ্চলিক দল হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি ইত্যাদি দুষ্কৃতিমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে পাহাড়ে নিরীহ সাধারণ মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে যা পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী বুকের রক্ত দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও ভূখ-ের অখ-তা রক্ষা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য বদ্ধপরিকর।