জাতীয়

বালিশকান্ডের বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানই রাবির নির্মাণ কাজ করছে

‘নিরাপত্তা’ চেয়ে রাবির ৯ শিক্ষকের জিডি
‘নিরাপত্তা’ চেয়ে রাবির ৯ শিক্ষকের জিডি

ক্যাম্পাসে নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাকের চাপায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল মারা যাওয়ার পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।বেরিয়ে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। পাবনার রূপপুরের বহুল আলোচিত বালিশকাণ্ডে জড়িত প্রতিষ্ঠান দিয়েই রাবির নির্মাণ কাজ চলছে।বিতর্কিত সেই মজিদ অ্যান্ড সন্স কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকি নিয়েই রাবি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ করছিল। ক্যাম্পাসে নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাক চলাচলের ক্ষেত্রে গতি মানা হতো না।সেই সঙ্গে মিস্ত্রি ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় কোন সতর্কতা মানা হয়নি। ফলে এক মাসের ব্যবধানে ক্যাম্পাসে নির্মাণ শ্রমিক মো. আলেক (৩৫) আলী ও শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেলের মৃত্যু হয়।

শিক্ষার্থী জানান, গত ৮ জানুয়ারি মিলনায়তনের সংস্কারকাজ করার সময় ছাদ থেকে পড়ে আহত হন শ্রমিক মো. আলেক। পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি। গত মঙ্গলবার হাবিব মারা যাওয়ার ঘটনায় সময় পায়ে আঘাত পান তাঁর বন্ধু রায়হান প্রামাণিক। এই ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে সব নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, সঠিক নিয়ম-নীতি ও সাবধানতা অনুসরণ করা গেলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা দেখতে হতো না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ঠিকই সব ধরনের নিরাপত্তা ও সাবধানতা অবলম্বন করার বিষয়ে আগেই বলা হয়েছিলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ২০১৫ সালে ৩৬৪ কোটি টাকার একটি বাজেট পাস হয়। সেই বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি আবাসিক হল, একটি ২০ তলা একাডেমিক ভবন ও শিক্ষকদের জন্য একটি ১০ তলা টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। গত বছরের শেষ দিকে এসব ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ তলা হল ও ২০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ করছে বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ অ্যান্ড সন্স কনস্ট্রাকশন। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সংস্কার কাজ করছে হুসেন কনস্ট্রাকশন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে মিলনায়তনের ছাদ ও দেয়াল মেরামত, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা সংযোজন, দর্শকদের বসার চেয়ার, স্টেজসহ মিলনায়তনের প্রায় সব কিছুই সংস্কার করা হচ্ছে। মিলনায়তনের ছাদটি দুই দিকে বেশ ঢালু। সেখানে নেই কোনো রেলিং। ঢালু ছাদের ওপরেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ চলত। এ ছাড়া পাটের মোটা দড়ি দিয়ে বাঁশ বেঁধে সেগুলোতে ঝুলে ঝুলে মিলনায়তনের দেয়ালে কাজ করতেন মিস্ত্রি-শ্রমিকরা। যা থেকে যে কোন সময় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।

গত ৮ জানুয়ারি মিলনায়তনের সংস্কারকাজ করার সময় ছাদ থেকে পড়ে আহত হন শ্রমিক মো. আলেক। পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি। গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাকের চাপায় মারা যান চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল। এ ঘটনায় পায়ে আঘাত পান তাঁর বন্ধু রায়হান প্রামাণিক। ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে নির্মাণাধীন ১০ তলা আবাসিক হলের শরিফুল ইসলাম নামের এক নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে নির্মাণ স্থান ঘুরে ঘুরে মিস্ত্রিদের কাজের বিষয়ে কথা হয়। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুতল ভবনগুলো নির্মাণের জন্য যেই তিনটি সাইটে কাজ চলছে তাতে রডমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, পাইলিং মিস্ত্রি, বেকোগাড়ি চালকসহ পাঁচ শরও বেশি মিস্ত্রি-শ্রমিক কাজ করতেন। কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকত না। দিন-রাতই কাজ চলত। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, মিস্ত্রি-শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতেন তাঁরা।

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘নির্মাণকাজ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ শুরুর অনুরোধ জানিয়েছিলাম। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরও সবার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সতর্কতা অবলম্বন করে কাজ করলে হয়তো পরিস্থিতি এমন না-ও হতে পারত। ’

এ বিষয়ে মজিদ অ্যান্ড সন্স কনস্ট্রাকশনের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মিলনায়তন সংস্কারকাজের তত্ত্বাবধানকারী মমতাজ উদ্দিন ডন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা তো সবাইকেই কাজের সময় সতর্ক থাকতে বলতাম। এখন দুর্ঘটনা তো আর বলে আসে না। তবে এখন কাজ আপাতত বন্ধ আছে। কাজ চালু হলে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। ’

মিলনায়তন সংস্কারকাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিনহাজুল আলম জানান, কাজ করার সময় সেফটি ব্যবহার করার কথা আগে থেকেই বলে দেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী শাহরিয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মৌখিক এবং লিখিত উভয়ভাবেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পরেও তারা সেটা আমলে নেয়নি। ’

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ