সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশন গঠনে যে ১০ জনের নাম সুপারিশ করবে, তা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার আগে জনসম্মুখে প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক। আজকের সভা শেষে বাইরে এসে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন তারা।
মাহফুজা খানম বলেন, সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতি কাছের যে ১০ জনের নাম পাঠাবে, তাদের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হতে হবে তিনি যেন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষ হন।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, কোন দলীয় সরকারের সময় বিশেষভাবে সুবিধাভোগী ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে যাতে স্থান না পান সেই দাবি জানিয়েছি। সেটাতে উপস্থিত অনেকেই সমর্থন করেছেন।
ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আমরা সবাই কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। বেশিরভাগই বলেছি, যারা ইসিতে সুযোগ পাবেন। তারা যেন কোন সরকারের আমলেই বিশেষ সুবিধাভোগী না হয়৷ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার নিজেদের পছন্দের লোকদের সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। অনেকেই অবসরের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারা যেন কোনভাবে কমিশনে না আসেন।
তিনি বলেন, যারা এই নির্বাচন কমিশনে আসবেন, তাদের যেন সুষ্ঠু নির্বাচন করার মানসিকতা থাকে। আমরা বলেছি সব নাম যেন আগেই প্রকাশ করা হয়, বিভিন্ন স্তরে স্তরে, যেমন সার্চ কমিটি ৩০ জনের নাম প্রস্তাব করে। তার মধ্যে কেউ যদি কোন একটা রাজনৈতিক দলের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে, কিংবা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় টকশোতে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলের পক্ষে ও বিপক্ষে বলেছে। এটা জনগণ তাদের বলতে পারবে৷ তারা বাদ দিয়ে দিতে পারবে।
আসিফ নজরুল বলেন, সার্চ কমিটি আমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন। সেটা নাম প্রকাশিত হওয়ার পর বুঝা যাবে। আমরা কেউ নাম দি নাই।
সকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। তারা জানান, নাম প্রকাশ হলেও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা বিতর্ক থাকবে, তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। সৎ, নিষ্ঠাবান ও যোগ্যদের বাছাই করতে সবাই মতামত দিয়েছেন। সব ধরনের মোহের বাহিরে থেকে নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করতে পারেন-এমন ব্যক্তিদের বেছে নিয়ে আসার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।