করোনার কারণে এ বছর বইমেলা ১৩ দিন হবে-বাংলা একাডেমির এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগেই ভিন্ন মত জানিয়েছেন প্রকাশকেরা। তাদের দাবি বইমেলা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত করার। এবার প্রকাশকদের সেই দাবির সাথে একমত পোষণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিও দাবি রাখলেন বইমেলা এক মাস চলতে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাব দেন। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে বাংলা একাডেমির মূল আয়োজনের সঙ্গে গণভবন থেকে সরাসরি ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন তিনি।
প্রকাশকদের দাবির প্রতি সায় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় পুরো মাসই (মেলা) চালাতে পারি। যেহেতু আমাদের প্রকাশকদের পক্ষ থেকে একটা দাবি এসেছে যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চ পর্যন্ত চালাতে পারে। আমি মনে করি যে, বইমেলা এক মাস চালাতে পারি। তবে সেটা আপনারা নিজেরাও দেখবেন ভেবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের পর অনুষ্ঠানস্থলে থাকা সকলে হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এর আগে বাংলা একাডেমি জানিয়েছিল, এবার বইমেলা শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। আর পর্দা নামবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর প্রকাশকদের দাবির মুখে জানানো হয়, মেলার সময় বাড়বে কিনা তা করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
বইমেলা ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া মহান একুশে ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বর্গফুট জায়গায় বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় মোট ৩৫টি প্যাভিলিয়নসহ একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪২টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩২টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৩৪টি ইউনিট; মোট ৫৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৬টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪টি প্রবেশপথ ও ৩টি বাহির পথ জনসাধারণের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য থাকবে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মানপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশে বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।
বরাবরের মতো বাংলা একাডেমির ৩টি প্যাভেলিয়ন, শিশুকিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য ১টি এবং সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকার এর জন্য ১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবার শিশু চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে প্রথমদিকে ‘শিশু প্রহর’ থাকছে না।
লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়ে উদ্যানের অ্যাম্ফিথিয়েটারের পূর্বদিকে মেলার মূল প্রাঙ্গণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মোট ১২৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান শতকরা ২৫ শতাংশে বই বিক্রি করবে।