প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশীল করতে ‘ব্লু-ইকোনমি‘ (সুনীল অর্থনীতি) কে কাজে লাগানোর সিদ্ধন্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগ খোলাসহ যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার (৬ মার্চ) সকালে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ৪১তম ব্যাচ ক্যাডেটদের ‘মুজিববর্ষ’ পাসিং আউট প্যারেডে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত এসডিজি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে। এসডিজির ১৭ গোল নিয়ে আগে থেকেই সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে দেশ। টেকসই উন্নয়নের জন্য এসডিজি-১৪ তে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সমুদ্র সম্পদের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ‘ব্লু- ইকোনমি’ নীতিমালা ঘোষণা দিয়েছি এবং এই সম্পদ ব্যবহার করে আমাদের অর্থনীতিকে যেন আরো গতিশীল করতে পারি, শক্তিশালী করতে পারি মজবুত করতে পারি তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
আমাদের বঙ্গোপসাগর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিশাল সমুদ্র সম্পদকে ফেলে রাখলে হবে না। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রেখে এ সব সম্পদ কাজে লাগাতে হবে। মৎস সম্পদ ও অন্যান্য সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়াতে হবে। আমাদের অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতে চাইলে সুনীল অর্থনীতিকে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোষ্টগার্ডসহ যারা সাগরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত তাদেরকে সাগর অর্থনীতি ও সাগরের পরিবেশের ভারসাম্য সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। তাহলে মাছের বংশ বিস্তার ঘটবে। মাছে ভাতে বাঙালি, প্রবাদটি বাস্তবে পরিনত হবে। তখন আমাদের পুষ্টির জোগায় হবে। এই সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিদেশে রফতানিও করা যাবে। সেজন্য মৎস উৎপাদনের জন্য দেশে গবেষণা চলছে। ইতিমধ্যে তাতে আমরা অনেক সাফল্যও পেয়েছি। কিন্তু, সমুদ্র সম্পদ আহরণে আমাদের এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। তা আমাদের দ্রুত করতে হবে।
তিনি পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি চাইবো, তোমরা সবসময় সাহসের সাথে কাজ করবে এবং তোমাদের লব্ধ জ্ঞান এক্ষেত্রে আরো বেশি সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় চট্টগ্রামস্থ কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন দেশের সর্বপ্রথম মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মেরিন ফিশারিজ একাডেমি’।
এ বছর একাডেমির ৪১তম ব্যাচে নটিক্যাল বিভাগে ৩৩ জন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩১ জন এবং মেরিন ফিশারিজ বিভাগে ২০ জন ক্যাডেটসহ সর্বমোট ৮৪ জন নারী ও পুরুষ ক্যাডেটের পাসিং আউট হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে তাদের সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ পদক বিতরণ করেন। এইচ এম বেনজীর আহমেদ সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারি চৌকষ ক্যাডেট হিসেবে ‘বেস্ট অলরাউন্ডার গোল্ড মেডেল’ লাভ করেন।
মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে মেরিন ফিসারিজ একডেমির কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়।
সূত্র: বাসস