ঈদে বিড়ম্বনার আরেক নাম রেলের টিকেট। কিন্তু অতীতের যে কোন বছরের চেয়ে এবার টিকেট কাটতে বেশি ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটানোর আনন্দ ফিকে করে দিচ্ছে এমন সব দৃশ্য। টিকিট কাটতে গিয়ে বিপত্তির অভিযোগ উঠছে প্রতিদিন। ট্রেনের টিকেট হয়ে গেছে সোনার হরিণ। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদে সবাই ট্রেনে বাড়ি যেতে চাইলে তা সম্ভব নয়। ট্রেনের সেই সক্ষমতা নেই।
৩০ এপ্রিলের টিকিট আজ মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) থেকে দেওয়া শুরু হলেও স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের চাপ সোমবার (২৫ এপ্রিল) থেকেই। লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই অধিকাংশের। কেননা সর্বমোট টিকিটের সংখ্যার বিপরীতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন কয়েকগুণ বেশি মানুষ।
দেখা গেছে, টিকিট প্রত্যাশীদের অনেকেই স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার পেয়ে যাচ্ছেন কাঙ্খিত সেই সোনার হরিণ।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার জানিয়েছেন, ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন ৫৩ হাজার যাত্রী ট্রেনে ঢাকা ছাড়তে পারবেন। এরমধ্যে শুধুমাত্র আন্তঃনগর ট্রেনে আসন থাকবে প্রায় ২৭ হাজার। এখন সবাই যদি ট্রেনে যেতে চান সেটা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব না।
এদিকে কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, কালকের টিকিটের জন্য যদি মানুষ আজ লাইনে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের কী করার আছে। আজকের টিকিট নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। আমরা তো সিস্টেম করেছি, এখানে অন্য কোনো সুযোগ নেই। কারণ আপনার টিকিটে আমি যেতে পারব না।
মন্ত্রী বলেন, চাহিদার তুলনায় আমাদের ট্রেনের সংখ্যা কম। ঈদে ৫০ লাখ মানুষ প্রতিদিন রাজধানী ছাড়বে। অথচ রাস্তার সক্ষমতা হলো মাত্র ১৫ লাখ। অনলাইনে সবাই টিকিট পাবেন না। পাঁচ লাখ মানুষ যদি যেতে চায়, আমি তো সবাইকে টিকিট দিতে পারবো না।