স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘হাজী সেলিম একজন সংসদ সদস্য, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনকে মাথায় রেখেই বিদেশ গিয়েছেন, আইন মেনেই দেশে ফিরে এসেছেন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হাজী সেলিম জরুরি চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলেন। আবার ফেরত চলে এসেছেন। আইনগতভাবে যেটুকু প্রশ্ন আসে, তিনি একজন সংসদ সদস্য, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনকে মাথায় রেখেই তিনি গিয়েছেন।’
হাজী সেলিম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হাইকোর্টে ভারডিক্ট হলে তার অফিসিয়াল রায় চলে আসে। ভারডিক্ট হয়েছিল, অফিসিয়ালি কিন্তু ওটা ইমপ্লিমেন্ট হওয়ার আগেই তিনি (হাজি সেলিম) গিয়েছেন আবার চলেও এসেছেন।
আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন হাজী সেলিম। দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ড নিয়ে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন তিনি।
এর আগে গত ২ মে সোমবার বিদেশে যান আওয়ামী লীগের পুরান ঢাকার সাংসদ হাজী সেলিম। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড পাওয়া হাজী সেলিম ঈদের পর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের কথা। তবে গত শনিবার সন্ধ্যায় কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক যান।
হাজী সেলিমের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছিল, ওই গাড়ির বহরে তার সঙ্গে পরিবারের কেউ ছিলেন না। হাজি সেলিম নিয়মিত যে গাড়ি ব্যবহার করেন ওইদিন সেটিতে চড়েননি। এমনকি চালকেরাও জানতেন না তাদের গন্তব্য।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে এক যুগ আগে বিচারিক আদালতের রায়ে সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাজি সেলিম হাইকোর্টে আপিল করেন।
এই আপিলের শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারিক আদালতের দেয়া ১৩ বছর সাজা কমিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রাখেন।
এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজি সেলিমকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।