জাতীয়

পদ্মা সেতু

দক্ষিণাঞ্চলের ভাগ্য ফেরাবে পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ছবি: সংগৃহীত।
পদ্মা সেতুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ছবি: সংগৃহীত।

২৫ জুন চালু হবে পদ্মা সেতু। সেই সাথে ভাগ্যও খুলে যাবে দেশের দক্ষিণ-অঞ্চল পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের। কেননা ঢাকার সাথে সরাসরি যুক্ত হবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ। এতে করে গ্রামীন অর্থনীতি সচল হবে।

নানা প্রতিবন্ধকতার পরও পদ্মা সেতু তৈরী থেকে সরে যাননি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নানা চ্যালেঞ্জ ছিল সেতু নির্মাণে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর বিশেষ বৈশিষ্ট সেতু নির্মাণে ভুগিয়েছে বেশ। পদ্মা নদীর এই ভিন্নতা সেতু নির্মাণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এ ক্ষেত্রে স্রোত যেমন, তেমনি গভীরতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পদ্মার থই পাওয়া তো খুবই কঠিন। পদ্মার গভীরতা কত আসলে? এর উত্তর একবাক্যে দেওয়া কঠিন। যেকোনো নদীরই একেক অংশের গভীরতা একেক রকম। যেখানে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে, সেখানে এর গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার বা ১৩১ ফুট। সাধারণ কোনো ভবনের প্রতিটি তলার উচ্চতা ১০ ফুট করে ধরলে এই গভীরতা ১৩ তলা ভবনের উচ্চতার সমান।

তাহলে ১৩ তলা উচ্চতার সমান দৈর্ঘ্যের কলাম দিলেই তো হয়। হয় না, কারণ এই দৈর্ঘ্য দিয়ে তো কলাম বা পিলারগুলো কেবল নদীর তলদেশ ছুঁতে পারবে। তলদেশে পিলারগুলো গাঁথতে না পারলেও স্রোতেই ভেসে যাবে সেতুটি। এখানে হলো আরেক চ্যালেঞ্জ। পদ্মার তলদেশ বেলে ও পলিমাটি দিয়ে গঠিত। পদ্মা কেন, দেশের সমভূমির কোনো নদীরই তলদেশে পাথর নেই। ফলে পিলার গাঁথার মতো শক্ত ভিত পেতে তলদেশ ফুঁড়ে বেশ অনেকটা যেতে হয়। পদ্মার ক্ষেত্রেও নিয়ম একই।

পিলার কতটুকু গাঁথতে হবে, তা হিসাব করা হয় সংশ্লিষ্ট নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়ার সর্বোচ্চ প্রবণতাকে মাথায় রেখে। অর্থাৎ কোনো নদীর যে অংশ সেতু তৈরি হচ্ছে, সেখানকার তলদেশের মাটি যদি সর্বোচ্চ ১০ ফুট সরে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে পিলার ১০ ফুটের বেশি গভীরে গাঁথতে হবে। এটাই সাধারণ নিয়ম। পদ্মায় এই মাটি সরে যাওয়া বা স্কাওয়ারের সর্বোচ্চ রেকর্ড হলো ৬১ মিটার বা প্রায় ২১০ ফুট। অর্থাৎ নিরাপদ ভিত পেতেই ২১ তলা ভবনের উচ্চতার সমান দৈর্ঘ্যের পিলার গাঁথতে হবে সেখানে।

এটুকুতেই তো পিলারের দৈর্ঘ্য হয়ে গেল (১৩‍+২১) ৩৪ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। কিন্তু নিরাপদ ভিত পর্যন্ত শুধু পৌঁছালেই তো হবে না। আবার এত দিন স্কাওয়ারের রেকর্ড ৬১ মিটার ছিল বলে আজীবন তাই থাকবে, তাও তো নিশ্চিত বলা যায় না। পদ্মা নতুন রেকর্ড করতেই পারে এবং তা সেতুর স্থানটিতেই হতে পারে। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আরও অনেকটা গভীরেই গাঁথতে হবে পিলারগুলো। কারণ, বছর বছর তো আর পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণ করা যাবে না। তাই গড়ে ১২০ মিটারের পাইল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চটি ১৫০ দশমিক ১২ মিটার বা ৪৯২ দশমিক ৫ ফুট। অর্থাৎ, সেতুটি নির্মাণের জন্য এমনকি প্রায় ৫০ তলা ভবনের উচ্চতার সমান দৈর্ঘ্যের পিলার স্থাপন করতে হয়েছে!

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ