মিসর থেকে ভাড়া করা দুটি বোয়িং উড়োজাহাজের কারণে পাঁচ বছরে '১ হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার অনিয়ম' খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ বিমানের বলাকা ভবন পরিদর্শন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান টিম। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনিয়ম সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করতে এই অভিযান।
২০২০ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে তখন ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির কথা জানা যায়।
বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের মার্চ ও মে মাসে মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দুটি উড়োজাহাজ (বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর) ভাড়ায় আনে বাংলাদেশ বিমান। এক বছর পর প্রথম উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আরেকটি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হয়। দেড় বছরের মাথায় সেটিও নষ্ট হয়। ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। সেটিও নষ্ট হয়। কিন্তু প্রতি মাসে ইঞ্জিনের ভাড়া দিতে হয়েছে!
এর আগে দশম সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ওই দুটি উড়োজাহাজ ভাড়ায় আনার অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করেছিল। সে সময় তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কোনো খোঁজখবর না করেই মিসর থেকে দুটি বোয়িং উড়োজাহাজ ভাড়া করায় সাড়ে তিন বছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩০৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। উড়োজাহাজ ভাড়ার চুক্তিকে ‘আত্মঘাতী’ উল্লেখ করে উড়োজাহাজ দুটি দ্রুত ইজিপ্ট এয়ারকে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। এতে বলা হয়, বিমান কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে নতুন উড়োজাহাজ কেনার চেয়ে ভাড়ায় আনতে উৎসাহী। এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে না আসা পর্যন্ত বিমানকে রক্ষা করা যাবে না।
বিমান দুটি চালিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর ওই দুটি বিমানের পেছনে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ফলে পাঁচ বছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।