নতুন অর্থবছর ২০২২-২৩ প্রস্তাবিত বাজেটে তালাকের খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করার সময় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, তালাকের রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাম্প ছিল ৫০০ টাকা। নতুন ঘোষিত বাজেটে এই অর্থ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০০০ টাকা।’
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, রাজধানীতে তালাকের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭ হাজার ২৪৫টি ডিভোর্স নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৫ হাজার ১৮৩টি স্ত্রীরা এবং ২ হাজার ৬২টি স্বামীরা পাঠিয়েছেন।
তালাকের মূল কারণ হিসেবে দেখা গেছে, অভাব, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মাদকাসক্তি, যৌতুক, কোভিড-পরবর্তী হতাশা ও পরকীয়া, যোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব পেশ করেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
সড়ক বিভাগে ৩৬ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, সেতু বিভাগে ৯ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ১৪ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে মোট ৮১ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, গত ১৩ বছরে সড়কপথের উন্নয়নে ৩৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ৪৪৮টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একই সময়ে ১৭৩.২০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ৪ বা তার অধিক লেনে উন্নীত করা হয়েছে এবং ৯১৪.৮৪ কিলোমিটার মহাসড়ক ৪ বা ততোধিক লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান আছে। বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় ২৬টি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
রেলপথ খাতে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ৩০ বছর মেয়াদি (২০১৬-২০৪৫) সংশোধিত মহাপরিকল্পনা অনুসারে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে কক্সবাজার, মোংলা বন্দর, টুঙ্গীপাড়া, বরিশাল, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য এলাকা রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে ও আঞ্চলিক রেলওয়ে যোগাযোগ স্থাপন এবং উন্নত কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালুর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরসমূহের সঙ্গে নিকটবর্তী শহরতলীর যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনার আওতায় ছয় ধাপে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।