ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভয়াবহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ এ এলাকা গেলো গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা জুন মাসে ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
আর গত তিন দিনে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটিও গত ২৭ বছরের মধ্যে তিন দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
আর এ ভারী বর্ষণের ফলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ভাটির প্রতিবেশী বাংলাদেশ। দেশের সিলেট বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা এই এরই মধ্যে ভয়াবহ ভাবে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
ভারতের মিটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট(আইএমডি) এই বৃষ্টিপাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে ১৬ জুন ১৫৬ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল চেরাপুঞ্জিতে। এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিগত ১২২ বছরের মধ্যে ৩য় সর্বোচ্চ।
সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, আগামী তিন দিন উজানে ভারতীয় অংশে ও বাংলাদেশ অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। টেলিফোন নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে ও দুর্ঘটনা এড়াতে পুরো সিলেটের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সিলেট বিভাগ কার্যত সারা দেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলা যায়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সিলেট বিভাগে গত কয়েক যুগের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্যা শুরু হয়েছে। দুই-তিন দিন এই বৃষ্টি ও বন্যা চলতে পারে। ফলে ওই এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকারের সব কটি বাহিনী ও সংস্থাকে সক্রিয় করতে হবে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, চেরাপুঞ্জিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্রের উজানে আসামে গুয়াহাটিতে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। ওই দুই এলাকার ভাটি এলাকা হিসেবে বাংলাদেশের সিলেট ও কুড়িগ্রামে ওই পানি নামা শুরু করবে। এর আগে থেকেই ওই এলাকায় এমনিতেও বৃষ্টি বেশি ছিল। এর সঙ্গে নতুন পানি যোগ হয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের হিসাবে, শুক্রবার(১৭ জুন) সকাল থেকে সিলেট বিভাগের সব কটি নদ–নদীর পানি ও উত্তরাঞ্চলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। দেশের বিভিন্ন নদ–নদীর ১০৬টি পয়েন্টের মধ্যে ৮৬টির পানি বাড়ছে, ২০টির কমছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি আরও দুই–তিন দিন অবনতি হতে পারে। উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিও দ্রুত খারাপ হতে পারে। কারণ, উজানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে, বাংলাদেশের ভেতরেও বৃষ্টি চলছে।