স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে এবং উঁচু অঞ্চল থেকে অনেক বেশি পানি নেমে আসলে ঢাকাও প্লাবিত হতে পারে। তবে আমারা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
রোববার (১৯ জুন) ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ৩য় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট ও সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, বন্যা কী পর্যায়ে যাবে সেটার পূর্বাভাস কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের দেয়নি। যারা পূর্বাভাস দেয় তারা বলেছে, একটা আগাম সতর্কতা আছে। তবে সেটা কোন পর্যায়ে যাবে সেটি বলা হয়নি।
ঢাকায় ১৯৮৮ সালের মত বন্যা হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, বন্যা হবে, কিন্তু কতটুকু হবে সেটির পূর্বাভাস কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের দেয়নি। ১৯৯৮ সালের বন্যাকে আমরা মোকাবেলা করেছি, আগেও বহুবার মোকাবেলা করেছি।
১৯৯৮ সালে বলা হয়েছিল ২ কোটি মানুষ মারা যাবে; কিন্তু একজনও মারা যায়নি। সে সময় মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি। যেখানে যা করা দরকার সেটি করা হচ্ছে। তবে যেকোনো খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। অপ্রস্তুত থাকা উচিত না। আমরা সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।
ঢাকা প্লাবিত হলে প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, একশ অথবা ১১০ বছরে হয়ত এমন দুর্যোগ আসে। এ অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন সময় এমন দুর্যোগ মোকাবেলা করেছে।
দুর্যোগের জন্য সব সময় প্রস্তুতি থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে বন্যা মোকাবেলায় যুগ্ন সচিব জসিম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। পরে প্রয়োজনে পরিবর্তন করা হবে।
পানির চাপ কমাতে সড়ক কেটে ফেলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পানি যাতে সরে যেতে পারে এজন্য কয়েকটি রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। কিছু রাস্তা কাটার প্রয়োজন পড়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র। এতে পানি সহজে নেমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কোথাও প্রয়োজন হলে আরও রাস্তা কেটে ফেলা হবে।
বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে বলে জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর বিষয়ে ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে উদ্যোগ নেই। এবারও সেটি করা হয়েছে। সকল প্রস্তুতি উভয় মেয়র নিয়ে রেখেছেন। যে সমস্ত কীটনাশক, ওষুধ, যন্ত্রপাতি দরকার তা তাদের কাছে মজুদ আছে।
শুধু বাংলাদেশে নয়, অনেক দেশেই ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে বাংলাদেশে এ বছর এখনও কেউ মারা যাননি। থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে কোন মৃত্যু নাই। তবে ডেঙ্গুতে ভারতে একজন, ফিলিপাইনে ৩১ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ২২৯ জন, মালয়েশিয়ায় ৭ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। এসব দেশ থেকে আমরা ভালো আছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা কিন্তু প্রস্তুত আছি। মানুষকে সচেতন করতে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।