বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টার পর থেকে সারা দেশে দোকান, মার্কেট, শপিংমল, কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে প্রথম দিনে সোমবার (২০ জুন) রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় সেই নির্দেশনার পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ব্যবসায়ীদের অনেকে বলছেন, সরকারের এমন নির্দেশনার কথা তারা জানেনই না।। কেউ কেউ বলছেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন, কিন্তু আশপাশে কেউ দোকান বন্ধ করেনি, তাই দেখাদেখি তারাও খোলা রেখেছেন।
মালিবাগ রেল গেট এলাকার মুদি দোকানি মোহাম্মদ স্বপন মিয়া বলেন, সরকারের নির্দেশনার কথা শুনছি। কিন্তু আশপাশের অনেকেই দোকান বন্ধ করেনি তাই আমিও খোলা রাখছি।
মিরপুর শপিং সেন্টারের নিরাপত্তা প্রহরী মো. জালাল বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের মার্কেট রাত ৮টায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো ঝামেলা হয়নি।
শাহবাগের আজিজ মার্কেটের দোকানের কর্মচারী আজিজ আহমেদ বলেন,কই, এই ব্যাপারে কেউ তো কিছু কয় নাই। সরকার নির্দেশ দিলে মানতেতো হইবোই।
পান্থপথের ফুটপাতের বিভিন্ন ধরনের প্যান্ট বিক্রেতা সালাহউদ্দিন বলেন, সরকারের নিয়ম করছে সেই নিয়মতো মানতেই হইবো। কিন্তু সন্ধ্যার পর বেচাকেনা ভালো হয়। এই টাইমে বন্ধ করলে বড় ক্ষতি হয়ে যাইবো। তাই পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে দোকান চালাচ্ছি।
সরকারি নির্দেশনার পর দোকান খোলা রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে বৃহত্তর নীলক্ষেত ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. দাউদুল্লাহিল মজিদ বলেন, প্রথম দিন অনেকে জেনে বা না জেনে দেরিতে দোকান বন্ধ করেছে। কিছুদিন পর অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর সমস্যা হবে না। তবে ঈদের আগে এমন সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম। আশা করি সরকার আমাদের দাবি মেনে নিবে।
মার্কেট বন্ধের বিষয়ে গতকাল রোববার(১৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বব্যাপী জ্বালানির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিজনিত বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সানুগ্রহ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১১৪ ধারার বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালনপূর্বক সারা দেশে রাত আটটার পর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপণি বিতান, কাঁচা বাজার ইত্যাদি খোলা না রাখার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
তবে শ্রম আইন অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার পর খোলা রাখা যাবে সেগুলো হচ্ছে—ডক, জেটি, স্টেশন অথবা বিমান বন্দর এবং পরিবহন সার্ভিস টার্মিনাল অফিস। তরকারি, মাংস, মাছ, দুগ্ধ জাতীয় সামগ্রী, রুটি, পেস্ট্রি, মিষ্টি এবং ফুল বিক্রির দোকান। ওষুধ, অপারেশন সরঞ্জাম, ব্যান্ডেজ অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান। দাফন ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির দোকান। তামাক, সিগারেট, পান-বিড়ি, বরফ, খবরের কাগজ, সাময়িকী বিক্রির দোকান এবং দোকানে বসে খাওয়ার (হালকা) নাশতা বিক্রির খুচরা দোকান। খুচরা, পেট্রোল বিক্রির জন্য পেট্রোল পাম্প এবং মেরামত কারখানা নয় এমন মোটর গাড়ির সার্ভিস স্টেশন। নাপিত এবং কেশ প্রসাধনীর দোকান। যেকোনো ময়লা নিষ্কাশন অথবা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। যেকোনো শিল্প, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান যা জনগণকে শক্তি আলো-অথবা পানি সরবরাহ করে এবং ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবার দোকান, সিনেমা অথবা থিয়েটার।