আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভারতের সঙ্গে চলাচল করা তিন ট্রেনে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে মিতালী এক্সপ্রেসে যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে ১৫ জুলাই থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ট্রেন তিনটি চলাচল করবে।
বুধবার (২২ জুন) দুপুরে রেল ভবনের সম্মেলনে কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
রেলমন্ত্রী বলেন, ৬ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ঢাকাগামী একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি, ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রা বিরতি থাকবে না। ঈদ যাত্রার শুরুর দিন ৫ জুলাই থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকাগামী কোনো ট্রেনের টিকিট ইস্যু করা হবে না।
ঈদের ১০ দিন আগে এবং ঈদের পরে ১০ দিন পর্যন্ত ট্রেনে সেলুন কার সংযোজন করা হবে না। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে নিয়োজিত রিলিফ ট্রেনগুলো স্ব-স্ব অবস্থানে প্রস্তুত রাখা হবে। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ঈদের ৩ দিন আগ থেকে কনটেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া সব গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, কমলাপুর, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ সব বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র্যাবের সহযোগিতায় টিকিট কালোবাজারী প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। তাছাড়া জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। চলন্ত ট্রেনে, স্টেশনে বা রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধকল্পে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
এ ছাড়া র্যাব, বিজিবি, স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন প্রতিরোধে জিআরপি ও আরএনবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, ঈদের আগে ও পরের ৫ দিন ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রয়োজনে এবং ঢাকা, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনে আন্তঃজোনাল আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনায় জরুরি সমস্যা সমাধানের সুবিধার্থে কর্মকর্তা নিয়োজিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ভিজিলেন্স টিম টিকিট বিক্রয়ের স্থানে মনিটরিং করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর, রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।