মশার উৎপত্তিস্থল খুঁজে বের করতে এবার ড্রোন নিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। দশ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযানের প্রথম দিন শনিবার(২ জুলাই) তিনটি টিম উত্তর সিটির তিনটি এলাকায় ড্রোন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে। পানি জমে থাকায় সতর্ক করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ির মালিককে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জোবায়দুর রহমান বলেন, জরিপ অনুযায়ী অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হবে। তাই আমরা এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আর সে হিসেবেই কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের মশক নিধন কর্মীদের যদি বলি তোমরা ছাদে উঠে উঠে মশার উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করো, তাহলে তারা দুই, চার বা সর্বোচ্চ ১০টি বাড়ি দেখবে। আবার অনেক বাড়িতে ঢুকতে দেয় না তাদের। কিন্তু একটি উঁচু ভবনে যখন আমরা উঠে ড্রোন দিয়ে দেখছি, তখন আশপাশের শত শত বাড়ি কিন্তু আমরা একঘণ্টার মধ্যে দেখে ফেলতে পারছি। এতে করে যেমন কাজ সহজ হয়েছে, তেমনি দ্রুততার সাথে মশার উৎপত্তিস্থল ছাদও কিন্তু আমরা চিহ্নিত করে ফেলছি। সেই সঙ্গে তাৎক্ষণিক সেই ভবনে গিয়ে আমরা মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি। মূলত এই কারণেই আমরা মশক নিধন কর্যক্রম বেগবান করতেই আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন ড্রোন নিয়ে একেকটি ভবনে যাচ্ছি, আশপাশের শত শত ভবনের ছাদ দেখছি, তখন অন্য ভবন মালিকরাও কিন্তু সচেতন হয়ে যাচ্ছে। অভিযানে দণ্ডিত যেন তারা না হয়, সে কারণে নিজেরাই তাদের ভবনের ছাদ পরিষ্কার রাখছে। মূলত এটাই আমাদের দরকার, সবাই সচেতন হলে মশক নিধন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া থেকে আমরা নগরবাসীকে রক্ষা করতে পারব।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ১০ দিনব্যাপী এই ড্রোন অভিযান চলবে। পরে ডেটা সংরক্ষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।