প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু সম্প্রদায় লোকজন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
তারা আরও বলেছে, একের পর এক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও জাতীয় সংসদ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও কোনো সরকারই হিন্দুদের দাবি মেনে নেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো হিন্দু সম্প্রদায়কে ফুটবলের মতো ব্যবহার করছে।
শনিবার(২ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
নড়াইলে কলেজ অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা, সাভারে কলেজ শিক্ষক হত্যা, মিথ্যা অযুহাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হিন্দুদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, জমি দখল, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে, বিগত ছয় মাসে হিন্দু নির্যাতনের রিপোর্ট পেশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।
জোটের মহাসচিব বলেন, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে গলায় জুতার মালা পড়ানোসহ নানাভাবে হেনস্তা, অপমান অপদস্থ শিক্ষকদের মান মর্যাদা ধুলিস্যাৎ করা হচ্ছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল সাভারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরামহীনভাবে প্রতিনিয়ত একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলেছে। একের পর এক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও জাতীয় সংসদ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি দীনবন্ধু রায় বলেন, নড়াইলের ঘটনা গোটা জাতির জন্য অপমানজনক। প্রতিবারই যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হয় তখন আশ্বাস দেওয়া হয় কিন্তু বিচার হয় না। এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ৬০টি সংরক্ষিত আসনসহ পৃথক সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায় হিন্দু মহাজোট।
সংবাদ সম্মেলনে মহাজোটের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্যসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।