আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, এরশাদ, জিয়া সব আমলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু শত নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে সব সময় শক্তিশালী ছিল। বিশেষ করে আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সব সময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারাই কিন্তু দলকে ধরে রেখেছেন। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।
সোমবার (৪ জুলাই) নিজ নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে তিনি নব নির্মিত টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পরে সেখানেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকটি কাজ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করে যাচ্ছি বলেই, আজ দেশের মানুষ ভালো আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনায় অনেক উন্নত দেশ, যাদের অনেক টাকা; তারাও তো বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিয়েছি। সবাই একযোগে কাজ করছি বলেই করোনা-বন্যাসহ যে কোনো পরিস্থিতি আমরা মোকাবিলা করতে পারছি।
তিনি বলেন, অন্যকোনো শক্তি নয়, মানুষের শক্তিই আমার কাছে বড় শক্তি।
মতবিনিময় সভায় দক্ষিণ ও উত্তর অঞ্চলের অতীত অবস্থার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে আমি যখন দেশে ফিরে আসি তখন সবচেয়ে অবহেলিত ছিল দক্ষিণাঞ্চল। উত্তরাঞ্চল ছিল মঙ্গা কবলিত এলাকা। তখন কোনো মানুষের গায়ে মাংস ছিল না। তাদের খাবার ছিল না। রোগের চিকিৎসা ছিল না। আর প্রতিবছর দুর্ভিক্ষ হতো। তখন থেকে আমার একটা প্রতিজ্ঞা ছিল, যখন সুযোগ পাবো তখন দেশের জন্য কাজ করবো। এখন উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা নাই। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলেও ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
মতবিনিময় সভায় শেখ হেলাল উদ্দিন (এমপি), শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল (এমপি), গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল শেখ, সহ-সভাপতি মো. ইলিয়াস হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল বিশ্বাসসহ টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।