করোনার অভিঘাত পেরিয়ে ‘প্রায় স্বাভাবিক’ সময়ের মতো রোববার (৯ জুলাই) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে বাংলাদেশ।
গত দুই বছর করোনা মহামারি ত্রাস সৃষ্টি করায় পৃথিবীর কোনো দেশেই উৎসব বলে কিছু ছিল না। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন রোগটি এখনো পুরোপুরি যায়নি। তবু টিকার কারণে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।
এবার ঈদ এমন এক সময় এল, যখন দেশের একটা অংশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী বন্যায় দুর্গত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ওদিকে করোনার নতুন সংক্রমণও কিছুটা বেড়েছে।
ঈদুল আজহার ইতিহাস সুপ্রাচীন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করেই সারা বিশ্বের মুসলমানরা ১০ জিলহজ কুরবানি দিয়ে থাকেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানির জন্য মহান আল্লাহতাআলার নির্দেশ পেয়েছিলেন। পরপর দুবার তিনি পশু কুরবানি করেন। তৃতীয়বার একই নির্দেশ পেয়ে তিনি অনুধাবন করেন, পুত্র ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় তার কেউ নেই। আল্লাহ পাক তাকেই কুরবানি করতে নির্দেশ দিচ্ছেন।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর নির্দেশ জানালেন। শিশু ইসমাইল (আ.) নির্ভয়চিত্তে সম্মতি দিয়ে পিতাকে আল্লাহতাআলার নির্দেশ পালন করতে বলেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, ‘কুরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত দুটি বছর বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব করোনা মহামারির বিভীষিকার মধ্যেই ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবিষ্যৎ সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। করোনা মহামারি ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী নিম্ন আয়ের মানুষ নানা সীমাবদ্ধতার মাঝে দিনাতিপাত করছে। তারাও যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং ঈদ উৎসবে শামিল হতে পারে, সে লক্ষ্যে তিনি দেশের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবার জীবনে সুখ ও আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে।’
তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার অনুরোধ জানিয়েছেন।