ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের কোথাও কোনো নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির তথ্য নেই। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং মানুষের ঈদ উদযাপন নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল মো. কামরুল হাসান।
তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও র্যাব বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
কামরুল হাসান বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে নিরাপত্তা সুইপিং করা হবে। পর্যাপ্ত ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে টহল থাকবে। পাশাপাশি র্যাবের স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন করা হবে।
ঈদে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহগুলো ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে র্যাবের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। এছাড়া র্যাবের স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স, ফুট ও মোবাইল পেট্রল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, অবজারভেশন পোস্ট, চেক পোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিং থাকবে।
কামরুল হাসান বলেন, যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে র্যাবের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। যে কোনো নাশকতা বা হামলা মোকাবিলায় র্যাবের স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডো টিম ও এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রাজধানী ছাড়াও সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ সংলগ্ন রাস্তায় চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স রিজার্ভ থাকবে।
পুলিশের এলিট ফোর্সের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্য, সাইবার মনিটরিংসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত নাশকতা বা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার তথ্য নেই। তারপরও আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। প্রস্তুতি হিসেবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রতিহত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক টহল সদস্য মোতায়েন ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।
কামরুল হাসান বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার জগতে মনিটরিং বাড়ানোর মাধ্যমে জঙ্গিদের যে কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে প্রস্তুত রয়েছে র্যাব। ভার্চুয়াল জগতে যে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে র্যাব সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখছে।
আগের বছরগুলোর মতো এবছরও অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে দেশব্যাপী ঈদ উদযাপিত হবে, এমন আশা প্রকাশ করে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, সবার প্রচেষ্টায়, সব বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে ঈদকে উৎসবমুখরভাবে পালন করতে র্যাব দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
ঈদগাহে আসা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে কামরুল হাসান বলেন, আপনারা হাতে একটু সময় নিয়ে এলে সুবিধা হয়। এখানে অনেক মানুষ আসবে, ফলে নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য লম্বা লাইনের সৃষ্টি হয়। আপনারা সময় নিয়ে এলে সঠিকভাবে ঈদগাহে প্রবেশ ও বের হতে সহায়তা করতে পারবো।