কোরবানির দিনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণে ‘সাফল্যের’ দাবি করে ঢাকার দুই নগর সংস্থা বলছে, সোমবার (১১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জবাই করা পশু এবং হাট এলাকায় তৈরি হওয়া প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সরানো হয়েছে।
এবার ঈদের দিনের বর্জ্য অপসারণে ঢাকা উত্তর ১২ ঘণ্টা আর দক্ষিণ সিটি ২৪ ঘণ্টা সময়ের লক্ষ্য ঠিক করেছিল। রোববার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এ কার্যক্রম ঢাকা দক্ষিণে শেষ হয় রাত সোয়া ১টার দিকে, আর উত্তরে শেষ হয় রাত ১২টার দিকে।
সোমবার (১১ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে উত্তরেরর মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, ঈদের পরদিন যাতে মানুষ সুন্দর পরিবেশ পায়। অনেকে বলেছেন, স্যার ২৪ ঘণ্টার সময় নেন। আমি বলেছিলাম না।
“ইচ্ছা থাকলে যে উপায় হয়, তার প্রমাণ ১২ ঘণ্টার আগেই আমরা শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি। এজন্য আমি নগরবাসী, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ধন্যবাদ জানাই।”
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, গত শনিবার বেলা ১১টা থেকে সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টায় মোট ১৯ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসরাণ করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাসের গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের পূর্ববর্তী অর্থাৎ ৯ জুলাই রাত ১১টা থেকে সোমবার (১১ জুলাই) বেলা সোয়া ৩টা পর্যন্ত ৪০ ঘণ্টায় দক্ষিণ সিটি এলাকা থেকে ১০ হাজার ৫০৪ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ফেলা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ডিজিটালি তদারকির কথা জানিয়ে দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়িগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে বর্জ্য অপসারণের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ৪০ ঘণ্টায় সাড়ে ১০ হাজার টন বর্জ্য অপসারণে যানবাহনগুলোর ২ হাজার ৩৭০টি ট্রিপ লেগেছে।
ঈদের দ্বিতীয় দিন সোমবারও দুই সিটিতে কোরবানির বর্জ্য তৈরি হওয়ায় তা দ্রুত পরিষ্কার করতে কর্মী নিয়োজিত করা হয়েছে।
এবার দুই সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রথম ধাপে বিভিন্ন অলিগলি থেকে ভ্যানে করে বর্জ্য নিয়ে এসটিএসে ফেলা হয়। পরে সেখান থেকে ল্যান্ডফিলে (কেন্দ্রীয় ভাগাড়) সরানো হয়। উত্তর সিটির বর্জ্য গেছে সাভারের হেমায়েতপুরের ল্যান্ডফিলে, আর দক্ষিণের বর্জ্য ফেলা হয়েছে মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে।
ঢাকার দুই নগর সংস্থা থেকে আগেই ছয় লাখের বেশি পলিব্যাগ বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হয়েছিল কোরবানির পশু বর্জ্য তাতে রেখে দেওয়ার জন্য।
পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন ব্যবহারের পাশাপাশি ওয়াটার বাউজারের মাধ্যমে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানিও ছিটানো হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুই সিটি মিলিয়ে প্রায় ৯০০ যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে।
কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণ নিয়ে যেকোনো অভিযোগ জানানো যাবে ফোন (১৬১০৬, ০২-৫৫৫০৫২০৮৪ ও ০৯৬০-২২২২৩৩৩) করে।
একই উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ সিটি কর্পোরশেনও।বর্জ্য অপসারণ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে ডিএসসিসির নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোন (০২২২৩৩৮৬০১৪ ও ০১৭০৯৯০০৮৮৮) করতে অনুরোধ জানিয়েছেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ।