ঈদের ছুটি এলেই রাজধানীর চিরাচরিত চিত্র যেন নিমেষেই পাল্টে যায়। মহল্লা, অলিগলি, এমনকি প্রধান সড়ক সব ফাঁকা হয়ে যায়। এমন চিত্র ছিল গত কয়েক দিনের। তবে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। রাজধানীতে ধীরে ধীরে ভিড় করছে নাড়ির টানে গ্রামে যাওয়া মানুষগুলো।
সোমবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত ছিল ঈদুল আজহার ছুটি। এর তিন দিন পর শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর রোববার (১৭ জুলাই) থেকে আবার অফিস। তাই অনেকে বাড়তি ছুটি নিয়েছিলেন। এখন তারা ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের ফিরতি যাত্রায় রাজধানী তার চেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রীদের চাপ কম থাকলেও সড়কে মানুষের উপস্থিতি গত দুই দিনের তুলনায় বেড়েছে। শুক্রবার (১৫ জুলাই)ও শনিবার (১৬ জুলাই) ঢাকায় ফেরা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিন ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেলের চলাচল বেড়েছে। এসব যানে অফিসগামী মানুষকে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চঘাট এবং মহাখালী, গাবতলী ও সায়দাবাদ বাসটার্মিনালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা দূরপাল্লার গাড়িতে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। বৃহস্পতিবার ( ১৪ জুলাই) সকাল থেকে ভরপুর যাত্রী নিয়ে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ ঢাকায় ফিরছে। উপচে পড়া চাপ না থাকলেও যাত্রীদের কমতি নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের ভিড় শুক্রবার ও শনিবার সবচেয়ে বেশি থাকবে। এই সময়ে বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ রাজধানীতে ফিরবেন।
কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ জুলাই) চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) ট্রেনের যাত্রী অনেক বেড়েছে। বগির ছাদেও উঠেছে যাত্রী।
সংখ্যায় কিছুটা কম হলেও বিভিন্ন জেলা শহর থেকে এরই মধ্যে ঢাকায় আসছে বাস।
গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা বাসে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এ ছাড়া পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়কপথে ঢাকায় ফেরায় লঞ্চের যাত্রী কমেছে। গতদিনের চেয়ে যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ার কথা জানিয়ে লঞ্চকর্মীরা বলছেন, যাত্রী সংখ্যা শুক্র-শনিবার আরও বাড়বে। নারী-শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের সংখ্যাটা বেশি।