বিশিষ্ট অণুজীব বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল শুক্রবার ( ১৫ জুলাই) বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর চলে গেছেন। এদিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করে বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায় সিঙ্গাপুরে পৌঁছান তিনি।
সিঙ্গাপুরে পৌঁছে ড. বিজন দেশ টিভিকে বলেন, আমি গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দেশে ফিরি। গণবিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে যুক্ত থাকার মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ মাসে। তার আগেই সিঙ্গাপুরে চলে এসেছি। সিঙ্গাপুরে একটি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক (consultant) হিসেবে কাজ করবো।
কী নিয়ে কাজ করবেন এবং গবেষণার বিষয় কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা শনাক্তের জন্য তৃতীয় সংস্করণ (3rd generation) পরীক্ষণ উন্নয়নের কাজ করবো- যা দিয়ে করোনা ভাইরাস ও তার অ্যান্টিবডিকে একই সঙ্গে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এই টেস্টের মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীর কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ তা অতি সহজে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই জানা সম্ভব হবে।
বিশিষ্ট অণুজীব বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর থেকে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বাংলাদেশে ফেরেন। অবস্থান করেন ঢাকার অদূরে সাভারে গণবিশ্ববিদ্যালয়ে। তার আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। তখন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে পানের দোকানদার, চায়ের দোকানদার, কেবিন ক্রুসহ সবাই তাকে আপনজনের মতো ভালোবাসা দেখিয়েছেন। এবারও তাই হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানে সংশ্লিষ্টদের আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করেছে।
করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের র্যাপিড টেস্ট কিট উদ্ভাবক দলের প্রধান ড. বিজন কুমার শীল। ওয়ার্ক পারমিট জটিলতায় ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি সিঙ্গাপুর ফিরে গিয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিট পান ২০২১ সালের ২৭ জুলাই। আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত পারমিটের মেয়াদ রয়েছে। তবে মেয়াদ শেষের আগেই তিনি এবার সিঙ্গাপুরে চলে গিয়েছেন।

ড. বিজন কুমার শীল
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ড. বিজন কুমার শীলকে বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিল। গণবিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছরের জন্য কাজ করার অনুমতি পান অধ্যাপক বিজন। গত বছরের ২৮ জুলাই থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন এবং পরে তার নিয়োগ নবায়ন করা হবে।
ড বিজন ২০২১ সালের ২৭ জুলাই থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বাংলাদেশে ছিলেন। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরে ছুটিতে গিয়েছিলেন
ড. বিজন কুমার শীলের মূল বাড়ি নাটোরের বনপাড়ায়। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান সিঙ্গাপুরেই বসবাস করছেন। ২০০২ সালে সিঙ্গাপুরের সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এ অণুজীববিজ্ঞানী। সিঙ্গাপুরের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে তিনি সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নিয়েছেন।
২০০৩ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সার্স ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত গবেষণায় সিঙ্গাপুর সরকারের বিজ্ঞানী হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন ড. বিজন। পরে ২০২০ সালের মার্চে সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দুই বছরের চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের জুলাইয়ে। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে ফিরে যান।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয় ২০২০ সালের মার্চে। তখন করোনা শনাক্ত করার কিট সংকট তীব্রতর হয়ে উঠে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তে র্যাপিড কিট (জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট কিট) উদ্ভাবনের বার্তা জানান অধ্যাপক ডঃ বিজন কুমার শীল। তাতে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসেন তিনি। কিন্তু তার নেতৃত্বে উদ্ভাবিত কিট বাংলাদেশ সরকার অনুমোদন দেয়নি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ড. বিজন বলেন, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলাম। তখন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে পানের দোকানদার, চায়ের দোকানদার, কেবিন ক্রুসহ সবাই আমাকে আপনজনের মতো ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন। এবার সিঙ্গাপুর ফেরার সময়ও তাই হলো।
আমি যতো বার দেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুরে এসেছি-ততো বার মন খারাপ হয়েছে। আমি আবার আমার দেশে ফিরবো। আমার মাতৃভূমিকে আমি ভুলে যেতে পারি না।
করোনা ভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের র্যাপিড টেস্ট কিট উদ্ভাবক দলের প্রধান ড. বিজন কুমার শীল। ওয়ার্ক পারমিট জটিলতায় ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি সিঙ্গাপুর ফিরে গিয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিট পান ২০২১ সালের ২৭ জুলাই। অনুমতি পাওয়ার পর ভীষণ উচ্ছ্বসিত হন তিনি। আগামী ২৬ জুলাই-২২ পর্যন্ত পারমিটের মেয়াদ রয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ড. বিজন কুমার শীলকে বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। গণবিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছরের জন্য কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন ড. বিজন।
তিনি বলেন, আমি ২০২১ সালের ২৭ জুলাই থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বাংলাদেশে আছি যা ২৬শে জুলাই ২০২২ সালে শেষ হবে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরে ছুটিতে গিয়েছিলাম। অতীতের কথাগুলো না বলাই ভালো। বিশেষত: ওয়ার্ক পারমিটের জটিলতা নিয়ে।’
ড. বিজন কুমার শীলের মূল বাড়ি নাটোরের বনপাড়ায়। তার স্ত্রী ও সন্তান সিঙ্গাপুরেই বসবাস করছেন। ২০০২ সালে তিনি সিঙ্গাপুরে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সার্স ভাইরাস প্রতিরোধে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন করোনা ভাইরাস রূপ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেহের সাথে অনেকটা খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এর ফলে কিন্তু ভাইরাসটির উপসর্গেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। শুরুর দিকে আমরা জানতাম, করোনা মানেই কাশি আর শ্বাসকষ্ট। আমরাও শুরু থেকে এমনটাই দেখেছি। কিন্তু এখন ওমিক্রনে যে ধরনের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, তা অনেকটা ঠাণ্ডা লাগার যে উপসর্গ হয়, অনেকটা সেরকমই। যে কারণে সাধারণ মানুষ অনেকটাই কনফিউজড (বিভ্রান্ত) আসলেই এটি ওমিক্রন নাকি সাধারণ ঠাণ্ডা, যা আমরা শীতকালে দেখে থাকি!’
বিজন কুমার শীল বলেন, যখন কোনো দেশে কোনো একটি রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি ঘটে, অর্থাৎ এটি যখন মহামারি আকারে দেখা দেয় তখন যদি ওই রোগের সঙ্গে অন্য কোনো রোগের উপসর্গ মিলেও যায়, তখন ধরা হয় যে রোগটি মহামারি আকারে ছড়িয়েছে। কারণ, এই ভাইরাসটিই এখন সারা দেশে, সারা পৃথিবীতে ছড়াচ্ছে। ওমিক্রনের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই, এর সঙ্গে এ মুহূর্তে অন্য কোনো রোগের উপসর্গের মিল থাকলেও ধরে নিতে হবে এটি ওমিক্রন।
তিনি বলেন, সবমিলিয়ে ওমিক্রন হলে আমি যতটুকু দেখেছি প্রচুর মাথাব্যথা.. হয়, এবং এরপরই শুরু হয় নাক থেকে পানি পড়া। একই সঙ্গে গলার মধ্যে খুসখুস করে।