গত কয়েক দিনের টানা দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের তীব্রতায় সবারই হাঁসফাঁস অবস্থা। সূর্যের খরতাপে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বাসা থেকে বের হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রোদের খরতাপে অসহনীয় অবস্থায় পড়ছেন তারা। রোদের তেজে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) রাতে রাজধানীতে দুই মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতেও কমেনি গরম।
বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল শুক্রবার (১৫ জুলাই) বৃষ্টি একটু বেশি হয়েছে। তবে গরম কমাতে এ বৃষ্টি যথেষ্ট নয়। আগামী রোববার বা সোমবারের পর থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির গণমাধ্যমকে জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল শুক্রবার বৃষ্টি একটু বেশি হয়েছে। আগামী রোববার বা সোমবারের পর থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। বৃষ্টি বাড়লে গরম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে কমবে গরমের তীব্রতা।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, টাঙ্গাইল, সিলেট, চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি নীলফামারীর সৈয়দপুরেও ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর ঢাকায় গতকাল শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বগুড়ায় ১৮ মিলিমিটার। আর ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৫ মিলিমিটার।
গতকাল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়ছে, তা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দেশে আগামী পাঁচ দিনে বন্যা হওয়ার ঝুঁকি নেই।