নির্বাচনের সময় এলেই বিএনপি যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার (২২ জুলাই) এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। তাদের বোঝা উচিত জনগণের জন্য কিছু না করে শুধু বাগাড়ম্বর বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতায় আসীন হওয়া যায় না।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছে। আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যও তারা জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারছে না। তাই বিএনপি নেতারা জাতির সামনে বিভ্রান্তিকর বক্তৃতা ও বিবৃতি প্রদান করে চলেছে।
জনগণকে আস্থায় রাখতে না পেরে বিএনপি একটি হতাশাবাদী রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি নেতারা প্রতিনিয়ত নিরাশার গল্প শুনিয়ে জাতির সঙ্গে তামাশা করছে। তারা খুব সচেতনভাবেই এটি করছে যেন মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে, সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। জনগণকে বিভ্রান্ত করে সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরির পাঁয়তারা করছে দলটি। প্রকৃতপক্ষে, হীন রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের অপচেষ্টায় শান্তিপ্রিয় মানুষকে আত্মঘাতী করে তোলার মতো দূরভিসন্ধি বিএনপির অর্বাচীন রাজনীতির পরিচায়ক।
বিবৃতিতে তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মহামারি অভিঘাতের মধ্যেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বিশ্বকে এক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে বিএনপি নামক রাজনৈতিক অপশক্তিটির কাছ থেকে জাতি কখনো দায়িত্বশীল কোনো আচরণ পায়নি। বরং তারা সব সময়ই সংকটময় মুহূর্তে জাতির ঐক্যের দুর্গে হানা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক এ সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো রয়েছে। ঠিক যেমনটি করোনাকালেও ছিল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় যেসব রিপোর্ট উঠে এসেছে সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান যথেষ্ট ভালো। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয় তখনো বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছিলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যার সফল রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার কারণে দেশের ওপর সেই মন্দার প্রভাব পড়েনি। শেখ হাসিনা মানেই সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দানের নেতৃত্ব। শেখ হাসিনা মানেই দুর্যোগে সুযোগ সৃষ্টির কারিগর।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গত একযুগেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশের জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। অথচ সংকট মোকাবিলায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসকে নস্যাৎ করতে বিএনপি নেতারা প্রতিনিয়ত নির্লজ্জ মিথ্যাচার, উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা কথায় কথায় বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করে দেশের জনগণের আত্মবিশ্বাস ক্ষুন্ন করতে চায়। তারা দেশের স্বপ্নবান জনগোষ্ঠীর সামনে বিভ্রান্তির ধোঁয়া ছড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। অথচ সচেতন ব্যক্তিমাত্রই জানেন, দুদেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তিই ভিন্ন। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে সমান্তরালে রেখে তুলনা করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলছেন। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে জনগণের ওপর চাপ বাড়ে একথা সত্য। সেদিক বিবেচনায় রেখে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। গত একযুগের বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা সরকার সেই মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করে ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রেখেছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বাঙালি জাতি সর্বদা আত্মবিশ্বাসী জাতি। জনগণের আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করা কোনো রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য হতে পারে না। আমি বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাবো, সামনের সংকট মোকাবিলার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন। এতে দেশের মানুষ উপকৃত হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হবে।