প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, সবাই বলছে নির্বাচনটা যেন অংশগ্রহণমূলক হয়। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছি, কাউকে নির্বাচনে আসতে আমরা বাধ্য করতে পারবো না। ওটা আমাদের দায়িত্ব নয়। আমাদের দায়িত্ব সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবাইকে আহ্বান করা।
রোববার (২৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে সত্যের বিরাট একটা ফারাক আছে জানিয়ে সিইস বলেন, নির্বাচনে প্রকৃত ব্যয় অনেক বেশি। অনেকে ১০-২০ লাখ ব্যয় করতে পারেন, কিন্তু প্রকৃত ব্যয় ১৫-২০ কোটি টাকা হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অর্থশক্তি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রচার-প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত ব্যয় কমানো সম্ভব। একই মঞ্চ থেকে যদি সব দলের নির্বাচনী প্রচার চালানো হয়, এটাকে প্রজেক্টশন মিটিং বলে, বিদেশেও হয়। এ প্রস্তাবটা আমার ভালো লেগেছে। তবে আমাদের আইনে সেটা নেই।
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে ১৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে বৈঠকে বসে। অন্যদিকে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে জাসদের নেতারা তাদের প্রস্তাবে ‘কতিপয় বিদেশি কূটনৈতিক বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাজে কূটনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী এবং অযাচিতভাবে নাক গলিয়েছে’ বলে অভিযোগ তোলেন। নির্বাচন কমিশনকে এ ধরনের ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী অযাচিত নাক গলানোকে’ প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
জবাবে সিইসি বলেন, ডিপলোম্যাটদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। একটি গ্রুপ এখানে এসেছে, এছাড়াও পরে দুইজন এসেছেন। তারা কিন্তু নির্বাচনের বিষয়ে কোনও পরামর্শ দেননি। বাইরে থেকে মনে হতে পারে। একটা বড় গ্রুপ এসেছিল, তারা আমাদের নির্বাচন বিষয়ে শুধু অবহিত হয়েছেন। কিন্তু উনারা উনাদের পক্ষ থেকে কোনও পরামর্শ দেননি। আপনাদের (জাসদ) হয়তো দেখা হলে দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের ওইভাবে কোনও পরামর্শ দেননি। আজ যতটুকু শুনেছি, এটা আগে থেকে একটি ধারাবাহিকতা। যখন নির্বাচন আসে তখন বিভিন্ন লোক এসে সাক্ষাৎ করে যায়। তারই অংশ হিসেবে হয়তো এটা হয়েছে।