সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে গত কয়েক বছরে ঢাকাসহ সারা দেশে বেশ কয়েকটি বড় আন্দোলন হলেও তেমন কোনো ‘সুফল মেলেনি’। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত কয়েক দশকে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই। শুক্রবার সেই আন্দোলনের চার বছর পূর্ণ হলো।
ফুটপাতে বাসচাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর পর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমেছিল। ধীরে ধীরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাস করে।
সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের কর্মকর্তারা দেশ টিভিকে বলেছেন, ‘ওই আন্দোলনের পর চার বছর কেটে গেলেও সাধারণ যাত্রীরা তেমন কোনো সুফল পাচ্ছেন না। প্রতি মাসে কয়েকশ করে মানুষ মারা যাচ্ছেন সড়কে।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) হিসাবে, ২০১৮ সালে সড়কে ৪ হাজার ৭৬ জন, পরের বছর আরও বেশি ৪ হাজার ৩৫৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০২০ সালে প্রাণহানি কিছুটা কমে ৩ হাজার ৫৫৮ জন হয়। অবশ্য ওই বছর করোনার কারণে প্রায় ৬৭ দিন যান চলাচল বন্ধ ছিল। গত বছর সড়কে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৭৬ জনে।
তবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু আরও বেশি। তাদের হিসাবে, ২০১৮ সালে সড়কে ৭ হাজার ২২১ জন ও পরের বছর ৭ হাজার ৮৮৫ জন নিহত হন। ২০২০ সালে প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমে হয় ৬ হাজার ৬৮৬ জন। গত বছর প্রাণহানি আবারও বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮০৯ জনে।
২০১৮ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের নয়টি দাবি ছিল। এর কিছু ছিল তাৎক্ষণিক, যার কয়েকটি বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু অন্য দাবির কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। যেমন প্রাণহানির দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালাতে না দেওয়ার দাবি পূরণ হয়নি।