জাতীয়

বরেণ্যজন অমিত হাবিবের প্রয়াণে সাংবাদিক পাভেলের আবেগঘন স্মৃতি

সাংবাদিক পাভেল হায়দার চৌধুরী
সাংবাদিক পাভেল হায়দার চৌধুরী

দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক পাভেল হায়দার চৌধুরী সদ্য প্রয়াত বরেণ্য সাংবাদিক অমিত হাবিবকে নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করে একটি লেখা লিখেছেন। তিনি তার ফেইস বুক অ্যাকাউন্টে ' জাদুকরের প্রস্থান' শীর্ষক এই লেখায় তিনি শুরুতেই লিখেন: সংবাদপত্র জগতে সাহসের নাম অমিত হাবিব। সততার নাম অমিত হাবিব। সফলতার নাম অমিত হাবিব। সৃষ্টির নাম অমিত হাবিব। মেরুদন্ড সোজা রেখে খবর প্রকাশের নাম অমিত হাবিব। জাদুকরের নামও অমিত হাবিব। আমার-আমাদের অমিতদা। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে এত বিশেষণ পেয়েছেন তিনি। সংবাদপত্র জগতে নিজেকে এত উচ্চতায় নিয়ে গিয়েও নিজেকে মেলে ধরা ছিল অমিতদার স্বভাব-বিরুদ্ধ।

পঞ্চমূখি প্রতিভার এই জাদুকরের প্রস্থান ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাত সোয়া ১১টায়। অমিতদার অসময়ে এই প্রস্থানে বলা যায়- সাহসী সাংবাদিকতার ও সম্পাদকের সংখ্যা কমল।

সারা রাত অমিতদার নিথর দেহের পাশেই ঘুরোঘুরি করে কাটিয়েছি। এতটা সময় একসঙ্গে কাটানোর পরও একবার ডেকে জানতে চাইলো না-পাভেল কি অবস্থা? আমার কাছে জানতে চাইলো না ডাক্তার দেখিয়েছি কি না? চলতি মাসের ১৬ তারিখ দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে দাদার রুমে বসে গল্পের ফাঁকে বললাম, দাদা আপনি তো আরও স্মার্ট হয়ে যাচ্ছেন। অমিতদা নিজের চেহারা ও শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখলো। পাল্টা প্রশ্ন করলো, তাই নাকি? আমি বললাম জ্বী দাদা। উনি জবাব দিল প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে ধপ করে জ্বলে উঠে। দাদা, এমন কান্ড ঘটাবেন জানলে আপনাকে স্মার্ট দেখাচ্ছে বলতামই না।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) ঢাকার সঙ্গে, আমার-আমাদের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে নিজের সব কাজ শেষ করে বেলা সাড়ে ১২টায় একটি ফ্রীজিং গাড়ি চড়ে নিজের ডেরা মহেশপুর চলে গেলেন অমিতদা। পাভেল আরো লিখেন: কষ্টের পাহাড় বুকে চেপে বসেছে। মহেশপুরের উদেশ্যে ফ্রীজিং গাড়ি ছোটার আগে মনেই হয়নি তিনি চির আড়ালেই চলে যাচ্ছেন। মনকে মানাতে না পারলেও বিদায় দিতে বাধ্য হলাম দাদাকে।

শেষে কর্মস্থল দেশ রূপান্তর অফিসটায় ফিরেছি ঠিকই, পা ভারী হয়ে আসছে, চলছিলই না। অফিসে যেতে কেনো যেনো কোনো মোহ কাজ করছে না। মনে হচ্ছে- কার অফিসে যাচ্ছি, কেনো যাচ্ছি? এসব ভেবেও উঠতেই হলো। অফিসটা বেশ ফাঁকা লাগতে শুরু করলো। এদিক-ওদিক ঘুরোঘুরি করে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুন ভাইয়ের রুমে ঢুকলাম, সেখানে বিশেষ প্রতিনিধি আশরাফুল হক ও সারোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে গল্প করছিলাম। কিন্তু ভেতরের চাপা কষ্ট-কান্না সামলে নিতে পারছিলাম কই! জাদুকর মহেশপুর চলে গেল, আমাকে-আমাদেরকে বলে গেল- আমি কিন্তু সত্যিই দেশ রূপান্তরে আর ফিরবো না। বললাম তাই কি হয়! এটা তো আপনার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান। শুনলেন না অমিতদা, চলেই গেলেন।

২০০৯ সাল থেকে পরিচয় অমিত হাবিবের (অমিত দা) সঙ্গে। পরিচয়ের মাধ্যম সুমন মাহবুব ভাই। তখন দেশে একটি বড় কাগজ- কালের কণ্ঠে'র বাজারে আসার প্রস্তুতি চলছে। সেই প্রস্তুতির অগ্রভাগে ছিলেন জাদুকরখ্যাত অন্তরালের কারিগর অমিতদা।

সুমন ভাই অমিতদার সঙ্গে যোগাযোগ করে কালের কণ্ঠে আওয়ামী লীগ বিটে চাকরি পাইয়ে দেন আমাকে। পথচলা শুরু অমিতদার সঙ্গে। ১৩ বছর চলেছি। বুকভরা সাহস-শক্তি ও সততা নিয়ে চলেছি। আজ অমিতদা নেই, বুকভরা সেই সাহস-শক্তি ও সততাও যেনো হারিয়ে ফেলেছি।

উকিল নোটিশ আসলেও অমিতদা আপনি আর বলবেন না-আরে দু...র। রাখেন এসব। টেবিলের সামনে এসে আর দাঁড়াবেন না। বলবেন না শুক্রবারের জন্য একটা রিপোর্ট রেডি করেন পাভেল। যদি অসময়ে প্রস্থানই ঘটাবেন তবে ভালোবেসে আগলে রাখতেন কেন? চলেই তো গিয়েছিলাম জাদু করে ফিরিয়ে আনলেন কেন অমিতদা?

কথা দিলাম অমিতদা, খুব শিগগিরই সেন্টমার্টিনে আপনার পছন্দের রিসোর্টে ঘুরতে যাব। সেখানে অমিত হাবিব চত্বরে বসে থাকবো। সম্ভব হলে, সময় পেলে আপনিও সেখানে চলে আইসেন দাদা।

দেশটিভি/পিএসডি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ