তৌফিক মাহমুদ মুন্না:
মানুষ সচেতন না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। শনিবার (৩০ জুলাই) সকালে দেশটিভিকে এ কথা বলেন তিনি।
মোবাইল ফোনে রেলমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের দুর্ঘটনাটি খুবই দু:খজনক। এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে গেলো, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু এই দুর্ঘটনার জন্য কিভাবে কাকে দোষারোপ করবেন? আমি সবসময়ই বলছি নিরাপদ সড়কের দায়িত্ব সবার। কারো একার নয়, মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব।
দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান অনুপস্থিত ছিলো-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গেটম্যানতো রাখা হয়েছে রেলের নিরাপত্তার জন্য। রেললাইনের ওপর দিয়ে বাস যাবে না ট্রাক যাবে সেটার জন্য রাখি নাই। কোনো যানবাহন যেনো আমার রেলকে অনিরাপদ করতে না পারে সেটাই হলো মূল কনসেপ্ট।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে
তিনি বলেন, গেটম্যান, দুর্ঘটনা, এ বিষয়গুলোতে রেলের ওপর এককভাবে দায় না দিয়ে যৌথভাবে নিতে হবে। এছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ আমাদের প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার গেট রয়েছে। এর মধ্যে কতগুলো বৈধ আবার কতগুলো অবৈধ এটার ওপর প্রায়ই আমরা কথা বলছি।
গেটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, গেটম্যানের বিরুদ্ধে আমি মামলা করবো। কারণ সে রেলকে সুরক্ষিত রাখতে পারেনি। মর্মান্তিক এই ঘটনাটির জন্য আমি গেটম্যানকেই দোষারোপ করবো।
তিনি বলেন, ঘটনাটির তদন্ত করার পর জানতে পারবো আসলে দায়ী কে? কিন্তু এই যে এতগুলো প্রাণ গেলো সেটা কি আর আমরা ফেরত পাবো। তাই বলছি, এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটতে পারে সেজন্য এর দায়-দায়িত্ব যৌথভাবে নিতে হবে। শুধু রেলের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়
এসময় তিনি মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যম আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৯ জুলাই) দুপুর পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা মীরসরাইয়ে খৈয়াছড়া পানির ঝরনা দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে দুপুরে খৈয়াছড়া রেল স্টেশনের কাছে লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন মহানগর প্রভাতীর ধাক্কা লাগে।
ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় মাইক্রোবাসটিকে। দুমড়ে-মুচড়ে যায় যানটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান ১১ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠান।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে
দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ। পরে রিলিফ ট্রেন এসে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটিকে সরিয়ে ফেলার পর স্বাভাবিক হয় রেল চলাচল।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- উপজেলার আজিম সাবরেজিস্ট্রার বাড়ির হাজি মো. ইউসুফের ছেলে মাইক্রোচালক গোলাম মোস্তফা নিরু (২৬), চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইলিয়াছ ভুট্টোর ছেলে মোহাম্মদ হাসান (১৭), একই ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়ার আবদুল হামিদের ছেলে জিয়াউল হক সজীব (২২), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজ মেম্বার বাড়ির জানে আলমের ছেলে ওয়াহিদুল আলম জিসান (২৩), মজিদ আব্বাস চৌধুরী বাড়ির বাদশা চৌধুরীর ছেলে শিক্ষক রিদুয়ান চৌধুরী (২২), পারভেজের ছেলে সাগর (১৭) ও একই এলাকার আবদুল ওয়াদুদ মাস্টার বাড়ির আবদুল মাবুদের ছেলে ইকবাল হোসেন মারুফ (১৭), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাফফর আহমেদের ছেলে মোসহাব আহমেদ হিসাম (১৬), আব্দুল আজিজ বাড়ির মৃত পারভেজের ছেলে তাসমির হাসান (১৭), মনসুর আলমের ছেলে মো. মাহিম (১৭), ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবু মুসা খানের বাড়ির মোতাহের হোসেনের ছেলে মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯)।