জুলাই মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৮০৪টি। এতে নিহত হয়েছেন ৮৭১ জন এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৭২ জন। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে বাস দুর্ঘটনায়। ১ হাজার ৫টি বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩২০ জন।
সোমবার (১ আগস্ট) সেভ দ্য রোড’র মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশের ২৬টি জাতীয় দৈনিক, বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও ইলেকট্রনিক চ্যানেলে প্রকাশিত এবং প্রচারিত তথ্যের পাশাপাশি সারাদেশে সেভ দ্য রোড'র স্বেচ্ছাসেবীদের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে পাঠান সংগঠনটির মহাসচিব শান্তা ফারজানা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সদ্য সমাপ্ত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬৫৩ কোটি ২৩ লাখ ৮১ হাজার ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
এতে বলা হয়, গত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৩১ জন, শিক্ষার্থী ১৯০ জন, নারী ২৫৫ জন, শিশু ৪৫ জন ও পঞ্চাশোর্ধ ১৫০ জন। বাইক লেন না থাকায় একই পথে চলাচলরত অন্য পরিবহনের ধাক্কায় সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য বাহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক বেশি গতিতে চলার কারণে প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাক দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। এসব বাহনের অধিকাংশ চালকের বয়সই ১৮ থেকে ৪০ এর মধ্যে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি নিয়ম না মানা ও হেলমেট ব্যবহারে অনীহার কারণে এক হাজার ১০৪টি দুর্ঘটনায় ৮৬৩ জন আহত এবং ২০৩ জন নিহত হয়েছেন। অসাবধানতা ও ঘুমন্ত চোখে ক্লান্তি নিয়ে দ্রুত চালানোর কারণে ৭৩৩টি ট্রাক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ৭১৪ জন এবং নিহত হন ১৬৫ জন।
এছাড়া খানাখন্দ, অচল রাস্তাঘাট আর সড়কপথ নৈরাজ্যের কারণে এক হাজার ৫টি বাস দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এক হাজার ১৩২ জন এবং নিহত হয়েছেন ৩২০ জন। পাড়া-মহল্লা-মহাসড়কে অসাবধানতার সঙ্গে চলাচলের কারণে লরি-পিকআপ-নসিমন-করিমন-ব্যাটারিচালিত রিকশা-সাইকেল ও সিএনজিচালিত যানবাহন দুর্ঘটনা ঘটে ৯৬২টি। এতে আহত হয়েছেন ৭৬৩ জন ও নিহত হয়েছেন ১৮০ জন।
এদিকে, গত জুলাই মাসে নৌপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ১১৮টি। এতে আহত হয়েছেন ৩২১ জন, নিহত হয়েছেন ১৯ জন। একই সময় রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪২টি। ঈদুল আজহার ঈদযাত্রাসহ বিভিন্ন ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩২ জন এবং নিহত হয়েছেন ২৪ জন। এ সময় আকাশপথে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বিমানবন্দরে দুটি বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সেভ দ্য রোড’র চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, জিয়াউর রহমান জিয়া, আইয়ুব রানাসহ অন্য নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে জুলাই মাসের এই প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আলোচ্য তা হলো- বাইক লেন না থাকায় সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে বেড়েছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। সেই সঙ্গে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পরিবহনগুলোও পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে।
প্রতিবেদনে সেভ দ্য রোড’র নেতারা পদ্মা সেতুসহ সারাদেশে সব সড়ক-মহাসড়ক-সেতুতে অনতিবিলম্বে বাইক লেন, গতিসীমা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন-পর্যবেক্ষণ এবং প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর পুলিশ বুথ স্থাপনের জন্য সুপারিশ করেন।