রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডার দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি পুর্নগঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুর্নগঠিত কমিটিতে দুইজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাত সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আছেন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এডিসি মনজুর মোর্শেদ, এডিসি ট্রাফিক (উত্তর-ডিএমপি) মোহাম্মদ বদরুল হাসান, বিআরটি প্রকল্প (বিবিএ পার্ট) পরিচালক মহিরুল ইসলাম খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-সওজ মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী, সহকারী অধ্যাপক, দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউট-বুয়েট, ড. মোহাম্মদ আসিফ রায়হান।
তদন্ত কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুর্নগঠিত তদন্ত কমিটি
সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে উত্তরার জসীম উদ্দীন এলাকায় আড়ংয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেট কারে ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে হতাহত হওয়া ব্যক্তিরা নবদম্পতিকে নিয়ে বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনেরা জানান, হৃদয় (২৫) ও রিয়া মনির (২১) বিয়ে হয় শনিবার। তারা সোমবার (১৫ আগস্ট) ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানে আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।
সোমবার বিকেলে স্বজনেরা নবদম্পতিকে নিয়ে কনের বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উত্তরার জসিমউদ্দিন মোড় সংলগ্ন সড়কে বিআরটির প্রকল্পের গার্ডার পড়ে তাদের প্রাইভেটকারের ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পাঁচজন। আহত হয় দুইজন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশের উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, তারা একটি বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, বক্সগার্ডার ওঠানোর সময় ভারসাম্য রাখতে না পারায় বহনকারী ক্রেন একদিকে কাত হয়ে যায়। তখন গার্ডারটি গাজীপুরগামী একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ হোসেন বলেন, একটি ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর সময় প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে গেলে সাতজন চাপা পড়েন।
ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, গাড়ির মালিক রুবেল (৫০), ফাহিমা (৪২), ঝর্না (২৮), দুই শিশু জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২) গাড়ির ভেতরেই চাপা পড়েছিলেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে গার্ডার সরানোর পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।